ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন।

পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ দ্বীপকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাঁকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। পরিবারের কাছে দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। মাকে বলেছিলেন, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি।’ এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা।

পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নদী থেকে তুলে আনে।

তাহসিফের সঙ্গে শেষ সময় কাটানোর বিষয়ে দ্বীপের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। সে সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। দ্বীপের কাছে বন্ধুর এই মৃত্যু রহস্যজনক এবং পুরো ঘটনাটি ধোঁয়াশাপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দ্বীপের সাক্ষাতের দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে আসেন দ্বীপ। সেখানে নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রেখে পরনের কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন তিনি।

কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নেমে আসেন। গ্যারেজে দুজনের কুশল বিনিময় ও হাত মেলানোর দৃশ্যও ফুটেজে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তাঁদের আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ওই রাতে কী ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্বীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পিবিআই।

ট্যাগ : বাংলাদেশ বিমানবাহিনী পিবিআই

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দ্বীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্বীপের সঙ্গে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন।

পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ দ্বীপকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে তাঁকে নিয়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।

তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ঘটে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায়। পরিবারের কাছে দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। মাকে বলেছিলেন, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে দেখা করে আসি।’ এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি সাবেক এই বিমান কর্মকর্তা।

পরদিন ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে। নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

নৌ-পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নদী থেকে তুলে আনে।

তাহসিফের সঙ্গে শেষ সময় কাটানোর বিষয়ে দ্বীপের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। সে সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। দ্বীপের কাছে বন্ধুর এই মৃত্যু রহস্যজনক এবং পুরো ঘটনাটি ধোঁয়াশাপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে তাহসিফের সঙ্গে দ্বীপের সাক্ষাতের দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজ অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসার গ্যারেজে আসেন দ্বীপ। সেখানে নিজের হেলমেটটি মোটরসাইকেলের ওপর রেখে পরনের কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ মুছে নেন তিনি।

কিছুক্ষণ পর তাহসিফ নিচে নেমে আসেন। গ্যারেজে দুজনের কুশল বিনিময় ও হাত মেলানোর দৃশ্যও ফুটেজে দেখা যায়। সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তাঁদের আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে গ্যারেজ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ওই রাতে কী ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দ্বীপকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পিবিআই।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ