বিমানে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাপান থেকে দেশে ফিরতে কিছুটা বিলম্ব হলেও সফরসঙ্গীদের কাউকে রেখে আসেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকল্প বিমানে ফেরার সুযোগ থাকলেও তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় বিমানের যাত্রীদের আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের খোঁজখবর নেন ও খাবারের ব্যবস্থা করেন।
শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, ‘জাপান থেকে ফেরার আগে বিমানে সামান্য ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে জাপান থেকে প্রধানমন্ত্রী চাইলেই অন্য কোনো বিমানে দেশে ফিরতে পারতেন। কিন্তু সবাইকে সেখানে ফেলে তিনি সেটি করতে চাননি। ওই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বিমানের অন্য যাত্রীদের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন, তাদের আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরেছেন।’
বিমানের ত্রুটি সম্পর্কে আতিকুর রহমান রুমন জানান, জাপান থেকে উড্ডয়নের আগে পর্যবেক্ষণের সময় সমস্যাটি ধরা পড়ে। তবে সেটি বড় কোনো ত্রুটি ছিল না। সফটওয়্যারের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হয়।
তিনি বলেন, ‘জাপান থেকে বিমান ছাড়ার আগে পযর্বেক্ষণের সময় সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা যায়। এটি বড় কোনো সমস্যা ছিল না। পরে সফটওয়্যার দিয়ে দ্রুত সেটির সমাধান করা হয়।’
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, ওই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের আশ্বস্ত করতে এগিয়ে আসেন ডা. জুবাইদা রহমান। বিশেষ করে শিশুদের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে নজর দেন তিনি।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘তিনি তাৎক্ষণিক বিমানের যাত্রীদের অভয় দেন। বিশেষ করে বাচ্চারা যেন কান্নাকাটি না করে, তারা যেন ভালোভাবে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন।’
জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটি সফর করেন তারেক রহমান।
সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। এসব আলোচনায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্যসমূহ