ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ প্রদর্শন ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। অবরোধ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ারশেল) নিক্ষেপ করেছে শিল্প ও থানা-পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরের পর কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বেতন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকার অধিকাংশ কারখানা তাৎক্ষণিকভাবে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরের পর কাশিমপুর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত জরুন ও কোনাবাড়ী এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জরুন এলাকার রিপন, ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ, কটন ক্লাব, মন্ডল এবং মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেডসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক কাজে বিরতি দিয়ে সড়কে বেরিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কোনাবাড়ী বিসিক শিল্পনগরীর শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকেরা কোনাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে দূরপাল্লার যানবাহনসহ স্থানীয় পরিবহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে গেলে শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। আত্মরক্ষা এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ একাধিক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল (টিয়ারশেল) ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গাজীপুর শিল্প অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকেরা কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরে জড়ো হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে টিয়ারশেল ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে শিল্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ