ঢাকা    বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও তা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারদের কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও কিংস কাউন্সেল (কেসি) স্টিভেন পাওয়েলস শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরে এ আবেদন পেশ করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা কেবল বহালই রাখেনি, বরং প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেছে।

লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। দেশে দলটির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও আইনগতভাবে তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচন প্রকৃত অর্থে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন অংশগ্রহণমূলক ছিল না দাবি করে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সাংবিধানিকভাবে অসংগত এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ভোটাধিকার হরণ হিসেবে আবেদনে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আইনি প্রতিকার না পাওয়ার বিষয়ে আবেদনে বলা হয়, সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি নিপীড়ন, হামলা ও ভয়ের পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আদালতে কার্যকরভাবে আইনজীবী নিয়োগ বা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক দলের ওপর এমন পাইকারি নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের ‘নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ’ (আইসিসিপিআর)-এর চারটি সুস্পষ্ট ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। এগুলো হলো—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ১৯), শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১), সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ২২) এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৫)।

এ প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষায়িত প্রতিনিধির তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ। আবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগ : আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও তা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ারদের কাছে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও কিংস কাউন্সেল (কেসি) স্টিভেন পাওয়েলস শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরে এ আবেদন পেশ করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা কেবল বহালই রাখেনি, বরং প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দান করেছে।

লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। দেশে দলটির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও আইনগতভাবে তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচন প্রকৃত অর্থে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন অংশগ্রহণমূলক ছিল না দাবি করে এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সাংবিধানিকভাবে অসংগত এবং বিপুল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ভোটাধিকার হরণ হিসেবে আবেদনে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আইনি প্রতিকার না পাওয়ার বিষয়ে আবেদনে বলা হয়, সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি নিপীড়ন, হামলা ও ভয়ের পরিবেশের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আদালতে কার্যকরভাবে আইনজীবী নিয়োগ বা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক দলের ওপর এমন পাইকারি নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের ‘নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদ’ (আইসিসিপিআর)-এর চারটি সুস্পষ্ট ধারার সরাসরি লঙ্ঘন। এগুলো হলো—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ১৯), শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১), সংগঠন গড়ার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ২২) এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার (অনুচ্ছেদ ২৫)।

এ প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষায়িত প্রতিনিধির তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ। আবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং পূর্ণ অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ