ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাওফ প্রদেশের হাজম এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্প লক্ষ্য করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ভয়াবহ বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। অতর্কিত এ হামলায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে হুথি বিদ্রোহীদের নিজস্ব বার্তা সংস্থা আল-মাসিরাহ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) জাওফ প্রদেশের ব্যস্ততম ওই জ্বালানি স্টেশনে এ রক্তক্ষয়ী বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা সিনহুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত জুলাই মাস থেকেই সৌদি সামরিক জোট এবং ইয়েমেনের বিদ্রোহী হুথি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর মাসে সেই টানাপোড়েন এক রক্তক্ষয়ী সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে হুথিরা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলে তাদের প্রতিহত ও বিতাড়িত করতে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি জোট। এর অংশ হিসেবেই বুধবারের এই প্রাণঘাতী বোমাবর্ষণ চালানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে রণক্ষেত্রে যখন পাল্টাপাল্টি তীব্র হামলা চলছে, পর্দার আড়ালে তখন পুরোদমে যুদ্ধ থামানোর এক গোপন কূটনৈতিক তৎপরতাও এগিয়ে চলেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’ এবং ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির যৌথ তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের স্থায়ী অবসানে রিয়াদ প্রশাসন এক যুগান্তকারী ও কৌশলগত প্রস্তাব টেবিলে রেখেছে।
সৌদি আরবের শর্ত অনুযায়ী, তাদের অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার, প্রধান বিমানবন্দর এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হুথিদের পক্ষ থেকে সব ধরনের রকেট ও ড্রোন হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে হুথিদের হাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) আর্থিক সহায়তা তুলে দিতে সম্মতি জানিয়েছে রিয়াদ। এই বিপুল তহবিলের সিংহভাগ অর্থ হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং বোমাবর্ষণে ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট ও আবাসন পুনর্নির্মাণে ব্যয় করার রূপরেখা রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক পরাশক্তি সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে এ শান্তি আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ইরান। তবে বিমান হামলার এই চলমান সংঘাতের মধ্যে এই বিশাল আর্থিক প্রস্তাব ও সমঝোতা শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে কি না, তা এখনো স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: সিনহুয়া
মন্তব্যসমূহ