পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েলের কোনো সামরিক উসকানি বা হঠকারী পদক্ষেপের কারণে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও গ্যাস বাজারে মারাত্মক ধস নামবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি উল্লেখ করেন, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বিশ্বের গ্যাস সরবরাহকারী এবং ভোক্তা—উভয় পক্ষের জন্যই এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এই সতর্কবার্তা দেন। মস্কোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ‘গ্যাস রপ্তানিকারক ফোরাম’-এ ইরানের কার্যকর অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, তেহরান তার নিজস্ব অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কূটনীতিকে গতিশীল রাখছে। তবে পারস্য উপসাগরীয় জ্বালানি সরবরাহ রুটে যেকোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহসিকতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ভয়াবহ ঝাঁকুনি দেবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের কথিত ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ চিরতরে দূর করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে একযোগে কাজ করার সুযোগ রয়েছে ইসরায়েলের।
এদিকে ক্রমবর্ধমান এ সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং আঞ্চলিক সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক অগ্রগতিতে পৌঁছেছে ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। তেহরানে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের এক ঐতিহাসিক চতুর্পক্ষীয় বৈঠকে দেশ চারটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নিয়মিত সমন্বিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একমত হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও ডিফেন্স ফোর্সেস চিফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি-এর প্রধান ড. ইব্রাহিম কালিন।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়, চারটি আঞ্চলিক শক্তির পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এই আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ বৈঠককে চারটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের প্রথম যৌথ কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেছে।
মন্তব্যসমূহ