শ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বাংলাদেশের সবকটি বিভাগেই বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া নিয়মিত আবহাওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থার বিবরণ অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এটি একই অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত ছিল। গতিপথ অনুযায়ী এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়টির দূরবর্তী প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পূর্বাভাসে জানানো হয়, ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। বৃষ্টির প্রভাবে চলমান দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এদিকে বর্তমানে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশাল জেলাসহ ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মেঘ ও বৃষ্টির সঞ্চার হওয়ায় এই তাপপ্রবাহ অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে। এ সময়ে রাজধানী ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
মন্তব্যসমূহ