ইসরায়েলের ২৬তম নেসেট (জাতীয় সংসদ) নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অপ্রত্যাশিত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও টিকে থাকার পেছনে নিজের সরাসরি সমর্থনকেই প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর দেওয়া আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থনের ফলেই নির্বাচনের ভোটের বাতাস দ্রুত ঘুরে যায় এবং নেতানিয়াহু বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয় এড়িয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরভিং সি. শয়ার্টজের মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ট্রাম্প যখন ‘বিবি’ (নেতানিয়াহু)-কে পুনরায় সমর্থন জানান, তখন নির্বাচনের পুরো মোড় ঘুরে যায়। এর ফলেই একজন সফল প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য নিশ্চিত পরাজয় ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন স্পষ্টতই সমতায় অথবা নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য বিজয়ের দিকে মোড় নিয়েছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও কল্যাণ চান বলেই এই জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক বুথফেরত জরিপ (এক্সিট পোল) ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ধারণার চেয়েও অনেক ভালো নির্বাচনী লড়াই উপহার দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর দেওয়া পুনরসমর্থন নেতানিয়াহু শিবিরকে ভোটের মাঠে বিপুল প্রাণশক্তি জুগিয়েছে এবং ইসরায়েলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরাও স্বীকার করছেন যে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে।
যদিও আংশিক ভোট গণনায় কোনো পক্ষই এখনো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার (৬১ আসন) নিশ্চিত করতে পারেনি, তবুও ট্রাম্পের এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নেতানিয়াহু শিবিরের মনোবলকে অনেকটাই চাঙ্গা করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের জটিল পার্লামেন্টারি কাঠামোতে নতুন জোট সরকার গঠনে এই বাহ্যিক প্রভাব কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা পূর্ণাঙ্গ ভোট গণনা ও জোট আলোচনার পরই স্পষ্ট হবে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
মন্তব্যসমূহ