ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ। শুরুতে দুই ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়লেও ওপেনার শাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছে স্বাগতিকরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০৩ রান। শাদমান ৪৬ এবং শান্ত ১৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
প্রথম সেশনের শেষে ২৯ ওভারে ৯৬ রান করেছিল বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর আরও তিন ওভারে ৭ রান যোগ করে শতরানের ঘরে পৌঁছায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সকালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসারদের বিপক্ষে ভালো শুরু পায়নি স্বাগতিকরা।
নতুন বলে জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে শুরু থেকেই সতর্ক হয়ে খেলতে হয় দুই ওপেনারকে।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে জাস্টিন গ্রিভসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।
২৩ বল খেলে ৭ রান করেন এই ওপেনার। তখন বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল ৯ রান।
তানজিদের বিদায়ের পর শাদমান ইসলামের সঙ্গে যোগ দেন মুমিনুল হক। প্রথম উইকেট দ্রুত হারানোর চাপ সামলে দুজন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের ইনিংস এগিয়ে নেন।
শুরুতে সতর্ক থাকলেও সময়ের সঙ্গে রান সংগ্রহের গতি বাড়ান তাঁরা। সুযোগ বুঝে বাউন্ডারি হাঁকানোর পাশাপাশি এক ও দুই রান নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার।
দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে প্রাথমিক বিপর্যয় থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেন শাদমান ও মুমিনুল।
তবে ভালো সূচনা পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মুমিনুল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারান মুমিনুল হক।
ক্রিজ থেকে এগিয়ে এসে বল উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকভাবে সংযোগ না হওয়ায় মিড অফ অঞ্চলে শামার জোসেফের হাতে ক্যাচ দেন।
আউট হওয়ার আগে ২৮ রান করেন মুমিনুল।
তাঁর বিদায়ে দ্বিতীয় উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর শাদমানের সঙ্গে জুটি গড়তে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মুমিনুলের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস ধরে রাখার দায়িত্ব নেন শাদমান ও শান্ত।
লাঞ্চ বিরতিতে শাদমানের সংগ্রহ ছিল ৪২ রান। আর শান্ত ব্যাট করছিলেন ১৫ রানে।
বিরতির পর দুজন সতর্কতার সঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেন। তাঁদের জুটিতেই বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০০ রান ছাড়িয়ে যায়।
৩২ ওভার শেষে ৪৬ রানে অপরাজিত শাদমান। অর্ধশতক থেকে তখন মাত্র ৪ রান দূরে রয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ১৭ রান নিয়ে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন শান্ত।
এই ম্যাচে ব্যাট হাতে আরও একটি ব্যক্তিগত অর্জন যুক্ত হয়েছে মুমিনুল হকের নামের পাশে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮ রানের ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই অর্জন করেছেন মুমিনুল।
বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও তাঁর ব্যক্তিগত ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
আঙুলে চোট পাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই ম্যাচে খেলতে পারছেন না তিনি।
অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হচ্ছে অন্য ক্রিকেটারদের।
সেই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই শুরুতে দুই উইকেট হারানোর পর শাদমান ও শান্তর ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে স্বাগতিকরা।
৩২ ওভারে ১০৩ রান করার পর বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে আরও উইকেট না হারিয়ে ইনিংস বড় করা। সেই দায়িত্ব এখন ক্রিজে থাকা দুই ব্যাটারের কাঁধে।
মন্তব্যসমূহ