ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে জাপানের সঙ্গে গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশের জনগণের মৌলিক স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে প্রতিবেশী ভারতকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে এমন সমঝোতা মেনে নেওয়া হলেও বর্তমান সচেতন জনগণ তা কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সব দিক থেকে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সুবিধা নিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় দলীয় ব্যক্তিদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে দাবি করে তাঁরা বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশজুড়ে লুণ্ঠন চালানো হচ্ছে এবং বর্তমান সরকারের স্থায়িত্ব কোনোভাবেই এক থেকে দুই বছরের বেশি হবে না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদলে পদলেহী ও চাটুকারদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
কর্মসূচিতে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে সন্ত্রাসীরা মাঠে অস্ত্র নিয়ে নামত, আর এখন সরাসরি মন্ত্রীদের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়। সন্ত্রাসীরা মন্ত্রী হয়েছে নাকি মন্ত্রীরা সন্ত্রাসী হয়েছে—সেই প্রশ্ন আজ সাধারণ মানুষের মুখে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর বর্তালেও অন্যায়ভাবে প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের সফরসঙ্গীদের পকেটে সবসময় রিটার্ন ফ্লাইটের টিকিট থাকে; কারণ তারা জানে নির্ধারিত মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়, তাই তারা দ্রুত সম্পদ পাচার করে বিদেশে পাড়ি জমাতে চায়।
সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, এমনকি খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ এলাকাতেও অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। অবিলম্বে সাথী আকতারের মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, জাপান চুক্তির আড়ালে বিশেষ কোনো দেশকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার কাঠামোতেও দলীয় ব্যক্তিদের বসিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ স্থানীয় পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সাধারণ মানুষ কথা বলতেও আতঙ্ক বোধ করছে। নির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্য গুলশানে অবস্থান করেন এবং তাঁর অনুগত পিএস, এপিএস ও দলীয় ক্যাডাররা গোটা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত পরিবর্তনের ওপর ভর করে সরকারে এসে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কলঙ্কিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যান্য নেতাদের মধ্যে হান্নান মাসউদ অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি ও দ্বিগুণ চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে সরোয়ার তুষার সরকারকে ‘ক্ষুদে বাকশাল’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুরকে অপরাধের গবেষণাগারে পরিণত করা হয়েছে এবং সরকার গণভোটের দাবি ভেস্তে দিয়ে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ