২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলা এবং পরবর্তী গাজা যুদ্ধের তিন বছর পর দেশটিতে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে রাত ১০টা (জিএমটি রাত ৮টা) পর্যন্ত চলবে। দেশটিতে নিবন্ধিত প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক রয়েছেন। তবে দেশটির নিয়মানুযায়ী বিদেশে থাকা সাধারণ নাগরিকদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় শুধু কূটনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা আগেই ভোট প্রদান করেছেন।
এবারের নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রকাশিত শীর্ষ টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর (চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩) জনমত জরিপ সংকলন করে দেশটির দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল ‘ইয়াশার’ ও বিরোধী জোট প্রায় ৫৪টি আসন পেতে পারে। বিপরীতে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের পক্ষে ৫০টি আসন পাওয়ার আভাস মিলেছে।
ইসরায়েলে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি ব্যক্তিকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। ১২০ আসনের নেসেটে কোনো দলকে প্রতিনিধিত্ব পেতে ন্যূনতম ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ হলো অন্তত ৬১টি আসন। জরিপের পূর্বাভাস অনুযায়ী কোনো একক জোটই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে, যার ফলে সরকার গঠনে দীর্ঘ রাজনৈতিক দর-কষাকষির আভাস স্পষ্ট।
ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল বুথফেরত জরিপের (এক্সিট পোল) ফল প্রচার করবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মন্তব্যসমূহ