যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ডলার এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে লক্ষণীয় পতন ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ফেডের আসন্ন মুদ্রানীতি সংক্রান্ত বৈঠকের ফলাফলের দিকে গভীর নজর রাখছিলেন। যদিও চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার জোরালো আভাস রয়েছে, তবুও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে আগামী ডিসেম্বরে ফের সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাস মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৪২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪ হাজার দশমিক ৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহ চুক্তিতে স্বর্ণের ফিউচার দর ০ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান পরিমাপক ডলার সূচক ০ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে এটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের তাৎক্ষণিক চাহিদায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও সরবরাহ বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে প্রায় ১১৬ ডলারে উঠেছে। এই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপকে দীর্ঘায়িত করছে, যার ফলে ফেডকে কঠোর আর্থিক নীতি বজায় রাখতে হবে বলে বাজার ধারণা করছে। উচ্চ ট্রেজারি বন্ড ইল্ড এবং ডলারের জোরালো উপস্থিতির কারণেই মূলত স্বর্ণের দাম নিম্মমুখী। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরেই ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বৃদ্ধি পায়।
বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাওয়া মার্কিন ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পিসিই মূল্যস্ফীতির হার ফেডের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দেখা গেলে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৯০০ ডলারের ঘরেও নেমে যেতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও তীব্র পতন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৩ দশমিক ২৩ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫০১ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৯ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ