যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ওয়াশিংটনকে ইরানের বেঁধে দেওয়া সমস্ত শর্ত পুরোপুরি পূরণ করতে হবে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) প্রধান মহসিন রেজাইয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠকে তিনি এ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে এসএনএসসি প্রধান মহসিন রেজাই চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংকট নিরসনে গৃহীত বিভিন্ন সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতাকে বিস্তারিত অবহিত করেন। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানি জনগণের বৈধ অধিকার ও সার্বভৌম স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ ফ্রন্ট’ বা অক্ষশক্তির অস্তিত্ব ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তেহরানের উত্থাপিত শর্তাবলি মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রীয় নীতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংকট উত্তরণে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের তাগিদ দেন ইরানের শীর্ষ এ নেতা। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের জন্য বৈশ্বিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক জোরদার করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে নিজেদের মধ্যে নিবিড় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ