ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ এটি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে এবং এর প্রভাবে ভারতের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে বুধবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। উপকূলীয় নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং বেশ কয়েকটি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হানার আশঙ্কা না থাকলেও এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, অন্ধ্র উপকূলে মূল আঘাত হানলেও ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।

ট্যাগ : আবহাওয়া ঘূর্ণিঝড়

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ এটি অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়টি কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে এবং এর প্রভাবে ভারতের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশেও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া ১২ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তথ্যমতে, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে বুধবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আঘাত হানার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। উপকূলীয় নিচু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং বেশ কয়েকটি জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর সরাসরি বড় ধরনের আঘাত হানার আশঙ্কা না থাকলেও এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, অন্ধ্র উপকূলে মূল আঘাত হানলেও ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ