ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতায় জোর

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতায় জোর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী জ্বালানি নিরাপত্তা, আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো, এআই ও মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় সরকারপ্রধানের মধ্যে এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপকল্প তুলে ধরে বলেন, সরকার দেশকে একটি টেকসই উৎপাদন ও প্রযুক্তিশিল্পের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়ার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে জাপান সরকার ও দেশটির শক্তিশালী বেসরকারি খাতকে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুবারের জাপান সফর এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। এই সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যৌথ কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের অধীনে সম্প্রতি জাপান প্রদত্ত ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বাংলাদেশে আধুনিক এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ কাজের লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠা এবং জাপানের সহযোগিতায় মহাকাশ বিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে দেশের প্রধান ছয়টি বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে উচ্চগতির বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী আধুনিক উড়াল সড়ক নির্মাণের ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের মেগা প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা বিশেষভাবে কামনা করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি, যোগাযোগ অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমমূল্যের বেসরকারি বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা দ্রুত যাচাই করতে খুব শিগগির জাপানের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে করনীতি, শুল্ক খালাস ও অর্থ স্থানান্তর সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ওপর দুই নেতাই জোর দেন।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অবাধ, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর জাপানের কূটনৈতিক প্রভাব অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান।

ট্যাগ : বাংলাদেশ জাপান

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতায় জোর

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী জ্বালানি নিরাপত্তা, আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো, এআই ও মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাসহ সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় সরকারপ্রধানের মধ্যে এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপকল্প তুলে ধরে বলেন, সরকার দেশকে একটি টেকসই উৎপাদন ও প্রযুক্তিশিল্পের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হওয়ার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে জাপান সরকার ও দেশটির শক্তিশালী বেসরকারি খাতকে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুবারের জাপান সফর এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। এই সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যৌথ কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের অধীনে সম্প্রতি জাপান প্রদত্ত ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বাংলাদেশে আধুনিক এলএনজি অবকাঠামো ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ কাজের লক্ষ্যে একটি আধুনিক ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠা এবং জাপানের সহযোগিতায় মহাকাশ বিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে যৌথ গবেষণার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনে দেশের প্রধান ছয়টি বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে উচ্চগতির বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী আধুনিক উড়াল সড়ক নির্মাণের ভবিষ্যৎ মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের মেগা প্রকল্পে জাপানের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা বিশেষভাবে কামনা করা হয়।

বৈঠকে জ্বালানি, যোগাযোগ অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমমূল্যের বেসরকারি বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা দ্রুত যাচাই করতে খুব শিগগির জাপানের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে করনীতি, শুল্ক খালাস ও অর্থ স্থানান্তর সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার ওপর দুই নেতাই জোর দেন।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অবাধ, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এ সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে মিয়ানমারের ওপর জাপানের কূটনৈতিক প্রভাব অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের উষ্ণ আমন্ত্রণ জানান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ