২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নজিরবিহীন উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিচ্ছেন ইসরায়েলের নাগরিকরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা ১৯৮১ সালের পর গত ৪৫ বছরের মধ্যে প্রথম তিন ঘণ্টায় দ্রুততম ভোটদানের রেকর্ড। ভোটারদের মতে, চলমান যুদ্ধ, বন্দিদশা এবং দেশের চরম রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে এটি আধুনিক ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী নির্বাচন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় সময় সকাল ৭টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা) থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং তা রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘ ১৯ বছর দেশ শাসন করা কট্টর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এবার অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক গাদি আইজেনকট। জনমত জরিপগুলো বলছে, দুই শিবিরের মধ্যে অত্যন্ত তীব্র লড়াই চলছে এবং ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই অনায়াসে সরকার গঠনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) অর্জনের স্পষ্ট পথে নেই।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও পরবর্তী বহুমুখী যুদ্ধ। বিরোধী শিবির ও সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট ওই ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য নেতানিয়াহুর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে হামাসের হাতে জিম্মি হওয়া গাদি মোজেসকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিবুতজ নির ওজ পরিদর্শন করেন আইজেনকট। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়া সত্ত্বেও হামাস গাজায় টিকে থাকায় যুদ্ধের উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে গাজায় হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থনকে নিজের প্রচারণার মূল ভিত্তি বানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি নিজেকে ইরানের মতো আঞ্চলিক বৈরীদের মোকাবিলা করার একমাত্র যোগ্য ও শক্তিশালী নেতা হিসেবে দাবি করছেন। নির্বাচনের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নির্বাচনী অনিয়ম সংক্রান্ত একটি খবর শেয়ার করে ডানপন্থী ভোটারদের গণহারে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করে রাখা আরব নাগরিকরা এবার ‘নজিরবিহীন হারে’ ভোট দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আরব এমপি আহমেদ তিবি। আইজেনকট আরব দলগুলোকে আনুষ্ঠানিক জোটে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করলেও পর্যবেক্ষকদের ধারণা, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তারা বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন জোগাতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দেশটিতে আবারও গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেবে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুই ক্ষমতায় বহাল থাকবেন।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ