ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালীদের প্রকাশ্যে শাস্তি: চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতেও ভীত নয় ইরান: আরাগচি জামায়াতের মিছিলে যাওয়ায় শিশু সাজ্জাদকে লাথির অভিযোগ, বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান বিষ খাবেন—প্রমাণে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন: শিবির সভাপতি দুর্নীতির পুরনো চক্র ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে: মামুনুল হক জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম সমাবেশে শিশির মনিরকে স্বর্ণের দাঁড়িপাল্লা উপহার নির্বাচনের আগের দিন জানানো হবে প্রধান উপদেষ্টার ভোটদানের স্থান-সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়া আলোচিত যুবলীগ নেতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির পাটওয়ারীই

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানকে মানতে হবে যে শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 22

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আগামীকাল ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই বৈঠকে কোন কোন ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে, সে বিষয়ে তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ তুরস্ক, মিসর ও কাতার একটি প্রাথমিক কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

কাতারভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বলা হয়, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দুইটি সূত্র দাবি করেছে, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করার শর্তও রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কে আরও বলা হয়েছে, ইরান আগামী তিন বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে না। ওই সময় শেষ হলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, ইরানের কাছে বর্তমানে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর শর্তও থাকতে পারে। পাশাপাশি হিজবুল্লাহ বা হুতির কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে প্রস্তাবিত শর্তে বলা হয়েছে, ইরানকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, শুধু ব্যবহার নয়, উৎপাদন সীমিত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমানোর বিষয়ও চুক্তির অংশ হওয়া উচিত।

একটি সূত্র আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘অগ্রাসনবিরোধী’ একটি সমঝোতার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের এ কাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক ‘প্রক্সি’ বাহিনীগুলোকে সহায়তার বিষয়েও সমঝোতা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানকে মানতে হবে যে শর্ত

আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আগামীকাল ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই বৈঠকে কোন কোন ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে, সে বিষয়ে তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ তুরস্ক, মিসর ও কাতার একটি প্রাথমিক কাঠামো (ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

কাতারভিত্তিক আল জাজিরার প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বলা হয়, পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে দুইটি সূত্র দাবি করেছে, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা বন্ধ করার শর্তও রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কে আরও বলা হয়েছে, ইরান আগামী তিন বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে না। ওই সময় শেষ হলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, ইরানের কাছে বর্তমানে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর শর্তও থাকতে পারে। পাশাপাশি হিজবুল্লাহ বা হুতির কাছে অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে প্রস্তাবিত শর্তে বলা হয়েছে, ইরানকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, শুধু ব্যবহার নয়, উৎপাদন সীমিত করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমানোর বিষয়ও চুক্তির অংশ হওয়া উচিত।

একটি সূত্র আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘অগ্রাসনবিরোধী’ একটি সমঝোতার প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তবে মধ্যস্থতাকারীদের এ কাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই বলে আসছে, ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক ‘প্রক্সি’ বাহিনীগুলোকে সহায়তার বিষয়েও সমঝোতা প্রয়োজন।