রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিহত সেনার সংখ্যা প্রকাশ করল ইউক্রেন

- আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 23
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রায় ৫৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে তিনি জানান, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্রান্সের টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চার বছর পূর্তির প্রাক্কালে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালীন সময়েই এ মন্তব্য করেন তিনি।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত ইউক্রেনীয় সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার। নিহতদের মধ্যে পেশাদার সেনা ও বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের মাধ্যমে যোগ দেওয়া সদস্যরাও রয়েছেন। তবে নিখোঁজ সেনাদের সঠিক সংখ্যা তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত যুদ্ধে ৪৬ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন।
এদিকে, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের প্রায় ৪ লাখ সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলায় ২ হাজার ৫১৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি দাবি করেছেন, শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার রুশ সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার মোট সেনা ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব তথ্যের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।
এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত রাশিয়া সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।
এদিকে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া নতুন দফার আলোচনা নিয়ে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ প্রথম দিনের বৈঠককে ‘ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে যুদ্ধ শেষ করতে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে।
আলোচনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড, বিশেষ করে ক্রিমিয়া ও দনবাস অঞ্চল এবং ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।






























