ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালীদের প্রকাশ্যে শাস্তি: চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতেও ভীত নয় ইরান: আরাগচি জামায়াতের মিছিলে যাওয়ায় শিশু সাজ্জাদকে লাথির অভিযোগ, বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান বিষ খাবেন—প্রমাণে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন: শিবির সভাপতি দুর্নীতির পুরনো চক্র ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে: মামুনুল হক জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম সমাবেশে শিশির মনিরকে স্বর্ণের দাঁড়িপাল্লা উপহার নির্বাচনের আগের দিন জানানো হবে প্রধান উপদেষ্টার ভোটদানের স্থান-সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়া আলোচিত যুবলীগ নেতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির পাটওয়ারীই

জামায়াতের মিছিলে যাওয়ায় শিশু সাজ্জাদকে লাথির অভিযোগ, বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 11

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিতে যাওয়ায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (তারিখ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। ওই সময় জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেনের উপস্থিতিতে সেখানে একটি উঠান বৈঠক চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

মারধরের শিকার শিশুর নাম সাজ্জাদ হোসেন। সে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাজাহানের ছেলে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুল কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে লাথি মেরে এবং পরে ধরে নিয়ে মারধর করেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল কাইয়ুম বিএনপির সমর্থক এবং তিনি একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উঠান বৈঠক চলাকালে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণার দুটি মাইক বৈঠকস্থলের কাছাকাছি চালানো হচ্ছিল। জামায়াত পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হলেও বারবার একই স্থানে মাইক চালানো হয়—এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. কবির হোসেন বলেন, অনুরোধের পর কিছু সময়ের জন্য মাইক বন্ধ থাকলেও পরে আবার প্রচারণা শুরু হয়। তার দাবি, এ অবস্থার মধ্যেই জামায়াতের মিছিল আসার সময় মিছিলে থাকা শিশুটিকে টেনে নিয়ে মারধর করা হয়।

শিশু সাজ্জাদ অভিযোগ করে জানায়, মিছিলে যাওয়ার সময় তাকে “জামায়াতের মিছিলে কেন আইছত” বলে লাথি মারা হয় এবং পরে আরও মারধর করা হয়। কান্নাকাটি করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানায় সে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উঠান বৈঠক শেষে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন বলেন, একটি শিশুর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, “একটি শিশু দাঁড়িপাল্লার পক্ষে স্লোগান দিয়েছে—এই কারণে হামলার অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে দুঃখজনক।”

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

জামায়াতের মিছিলে যাওয়ায় শিশু সাজ্জাদকে লাথির অভিযোগ, বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার

আপডেট: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিতে যাওয়ায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার (তারিখ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে। ওই সময় জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেনের উপস্থিতিতে সেখানে একটি উঠান বৈঠক চলছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

মারধরের শিকার শিশুর নাম সাজ্জাদ হোসেন। সে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহাজাহানের ছেলে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আব্দুল কাইয়ুম নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে লাথি মেরে এবং পরে ধরে নিয়ে মারধর করেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুল কাইয়ুম বিএনপির সমর্থক এবং তিনি একই এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উঠান বৈঠক চলাকালে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণার দুটি মাইক বৈঠকস্থলের কাছাকাছি চালানো হচ্ছিল। জামায়াত পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হলেও বারবার একই স্থানে মাইক চালানো হয়—এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. কবির হোসেন বলেন, অনুরোধের পর কিছু সময়ের জন্য মাইক বন্ধ থাকলেও পরে আবার প্রচারণা শুরু হয়। তার দাবি, এ অবস্থার মধ্যেই জামায়াতের মিছিল আসার সময় মিছিলে থাকা শিশুটিকে টেনে নিয়ে মারধর করা হয়।

শিশু সাজ্জাদ অভিযোগ করে জানায়, মিছিলে যাওয়ার সময় তাকে “জামায়াতের মিছিলে কেন আইছত” বলে লাথি মারা হয় এবং পরে আরও মারধর করা হয়। কান্নাকাটি করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানায় সে।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উঠান বৈঠক শেষে জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন বলেন, একটি শিশুর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, “একটি শিশু দাঁড়িপাল্লার পক্ষে স্লোগান দিয়েছে—এই কারণে হামলার অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে দুঃখজনক।”

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি তাকে জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দীনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।