ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

তীব্র তাপপ্রবাহ ও সম্ভাব্য পানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করেছে পাকিস্তান। সম্মেলনে দেশটির নেতারা বলেছেন, এই চুক্তি কার্যকর না থাকলে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে ভারত বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করে। ওই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে আসছে।

১৯৬০ সাল থেকে কার্যকর এই চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও এতদিন চুক্তিটি টিকে ছিল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত ‘দ্য ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি: আ কি ইনস্ট্রুমেন্ট ফর পিস অ্যান্ড রিজিওনাল স্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক সম্মেলনে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন।

রেডিও পাকিস্তানের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসহাক দার বলেছেন, কোনো চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান না থাকলে কোনো পক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাঁর মতে, সিন্ধু পানি চুক্তি শুধু পানি বণ্টনের কাঠামো নয়, এটি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

ইসহাক দার বলেন, পানি কখনো রাজনৈতিক অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। অভিন্ন নদীগুলোকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে সহযোগিতার সেতু হিসেবে রাখা উচিত। পানি মানবিক মর্যাদা, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত পানিপ্রবাহ কমানো বা বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের ন্যায্য পানি বণ্টন ব্যাহত হলে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও। সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলপথকে রাজনৈতিক বা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের প্রস্তাব দেন।

বিলাওয়াল বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে মর্যাদার সঙ্গে। সংলাপ চায়, তবে আইনের ভিত্তিতে। সহাবস্থান চায়, আত্মসমর্পণ নয়। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান তার পানি, জনগণ, চুক্তি, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবস্থান নেবে।

সম্মেলনে পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে তিনটি যুদ্ধের সময়ও টিকে ছিল। যদি এই চুক্তি টিকে না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী কাগজে লেখা কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই নিরাপদ থাকবে না।

এদিকে পাকিস্তানের ইন্ডাস রিভার সিস্টেম অথরিটির চেয়ারম্যান মেহর আলী শাহ অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত চেনাব নদীর পানিপ্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে, যা চুক্তির পরিপন্থী।

ভারতের পক্ষ থেকে সম্মেলনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি বলেন, ধারাবাহিক উসকানি ও দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণেই ভারত চুক্তি স্থগিত রেখেছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী ভারত রাভি, শতদ্রু ও বিয়াস নদীর পানি ব্যবহার করে। অন্যদিকে পাকিস্তান পায় সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের পানি।

২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করা, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ এবং ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপের পর দুই দেশের সম্পর্ক এখন কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ : ভারত পাকিস্তান এশিয়া ভূরাজনীতি কাশ্মীর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬

featured Image

তীব্র তাপপ্রবাহ ও সম্ভাব্য পানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করেছে পাকিস্তান। সম্মেলনে দেশটির নেতারা বলেছেন, এই চুক্তি কার্যকর না থাকলে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অংশ হিসেবে ভারত বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় হওয়া সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করে। ওই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা অস্বীকার করে আসছে।

১৯৬০ সাল থেকে কার্যকর এই চুক্তি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী ও এর উপনদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একাধিক যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও এতদিন চুক্তিটি টিকে ছিল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত ‘দ্য ইন্ডাস ওয়াটার্স ট্রিটি: আ কি ইনস্ট্রুমেন্ট ফর পিস অ্যান্ড রিজিওনাল স্ট্যাবিলিটি’ শীর্ষক সম্মেলনে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেন।

রেডিও পাকিস্তানের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসহাক দার বলেছেন, কোনো চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান না থাকলে কোনো পক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাঁর মতে, সিন্ধু পানি চুক্তি শুধু পানি বণ্টনের কাঠামো নয়, এটি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

ইসহাক দার বলেন, পানি কখনো রাজনৈতিক অস্ত্র হওয়া উচিত নয়। অভিন্ন নদীগুলোকে সংঘাতের কারণ না বানিয়ে সহযোগিতার সেতু হিসেবে রাখা উচিত। পানি মানবিক মর্যাদা, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত পানিপ্রবাহ কমানো বা বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের ন্যায্য পানি বণ্টন ব্যাহত হলে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিও। সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলপথকে রাজনৈতিক বা কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে নতুন একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের প্রস্তাব দেন।

বিলাওয়াল বলেন, পাকিস্তান শান্তি চায়, তবে মর্যাদার সঙ্গে। সংলাপ চায়, তবে আইনের ভিত্তিতে। সহাবস্থান চায়, আত্মসমর্পণ নয়। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান তার পানি, জনগণ, চুক্তি, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবস্থান নেবে।

সম্মেলনে পাকিস্তানের মন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে তিনটি যুদ্ধের সময়ও টিকে ছিল। যদি এই চুক্তি টিকে না থাকে, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী কাগজে লেখা কোনো আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাই নিরাপদ থাকবে না।

এদিকে পাকিস্তানের ইন্ডাস রিভার সিস্টেম অথরিটির চেয়ারম্যান মেহর আলী শাহ অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত চেনাব নদীর পানিপ্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে, যা চুক্তির পরিপন্থী।

ভারতের পক্ষ থেকে সম্মেলনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে জাতিসংঘের এক অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি বলেন, ধারাবাহিক উসকানি ও দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণেই ভারত চুক্তি স্থগিত রেখেছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বন্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি স্থগিত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী ভারত রাভি, শতদ্রু ও বিয়াস নদীর পানি ব্যবহার করে। অন্যদিকে পাকিস্তান পায় সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের পানি।

২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়। কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করা, সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ এবং ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপের পর দুই দেশের সম্পর্ক এখন কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ