খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ১১ কোটি ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮৮ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের সরকারি অর্থ (জিওবি ফান্ড) থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যয়ন দেন।
পরে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ওই অর্থ সংস্থাটির রাজস্ব হিসেবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
সংস্থাটির দাবি, এভাবে প্রকল্পের মোট ১১ কোটি ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৮৮ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অসদাচরণের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ এনেছে দুদক।
মামলায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ছয় কর্মকর্তা ও দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে আসামি করা হয়েছে।
কেডিএর কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব, পিআরএল ভোগরত) শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ও উপপ্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন।
অন্য দুই কর্মকর্তা হলেন সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আসামি হয়েছেন আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান এবং মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান।
দুদকের অভিযোগ, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৫১১, ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব ধারায় যথাক্রমে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা, সরকারি অর্থ বা সম্পদের ক্ষেত্রে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং অপরাধে সহায়তার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।
মন্তব্যসমূহ