দীর্ঘ আন্দোলন আর প্রায় তিন দশকের অপেক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও তিতুমীর এক্সপ্রেস স্টেশনটিতে থামলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ব্যান্ড পার্টির বাদ্য আর মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করেন দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের মুহূর্তটি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা ট্রেন দুটিকে স্বাগত জানান। এ সময় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যেও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
রাবি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। স্টেশনটিতে প্রয়োজনীয় ট্রেন না থামায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজশাহী রেলস্টেশনের ওপর নির্ভর করতে হতো।
বিশেষ করে রাতের ট্রেনে যাতায়াত করা শিক্ষার্থীরা বেশি অসুবিধায় পড়তেন। রাজশাহী রেলস্টেশন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরতে তাঁদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো।
এ সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে রেল কর্তৃপক্ষ সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
নতুন এই সুবিধা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রেল মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য ট্রেনের যাত্রাবিরতি চালুর বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তবে এই অর্জন স্থায়ী করতে হলে শিক্ষার্থীদের রেলের নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রত্যেককে বৈধ টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। আসন না পেয়ে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করলেও স্ট্যান্ডিং টিকিট নিতে হবে।
একই সঙ্গে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নিয়ম মেনে চললে তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাকসু অবস্থান নেবে।
সাগরদাঁড়ি ও তিতুমীর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি শুরু হলেও রাবি স্টেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর দাবি এখনো পূরণ হয়নি।
সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, মধুমতী, বনলতা ও পদ্মা এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে। এসব ট্রেনের যাত্রীরা যাতে অসুবিধায় না পড়েন, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাটল বাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্য ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি নিয়েও রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
আন্দোলনের মাধ্যমে পাওয়া সুবিধাটি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্যও বহাল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, ‘আমরা আজ আছি, কাল থাকব না কিন্তু এই সুযোগ যেন দীর্ঘদিন বজায় থাকে, সে দায়িত্ব সবাইকে নিতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন যাত্রাবিরতির ফলে বিশেষ করে রাতের ট্রেনে যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে অন্য আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রেল যোগাযোগের সুবিধা আরও বাড়বে।
মন্তব্যসমূহ