নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীরা যথাযথ সুযোগ পাচ্ছেন না উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা বা সততাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না, আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে শুধু আক্ষেপ প্রকাশ না করে স্পিকারের সাংবিধানিক পদমর্যাদা থেকে কাঠামোগত পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি তুলে তাসনিম জারা বলেন, সংসদের বড় অংশের সদস্য ব্যবসায়ী ও কোটিপতি। অনেক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং এসব সম্পদকে ‘উপহার’ হিসেবে দাবি করেন, যার পেছনে কোনো স্বার্থ লুকিয়ে আছে কি না তা যাচাইয়ের সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেই। কেবল পাঁচ বছরে একবার নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামার ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাজ্যের আদলে একটি বাধ্যতামূলক অনলাইন রেজিস্টার ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। যেখানে এমপিদের ব্যবসার অংশীদারত্ব, নিয়মিত সম্পদের বিবরণ, প্রাপ্ত উপহার ও বিদেশ সফরের তথ্য জনসমক্ষে নিয়মিত হালনাগাদ থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি সংক্রান্ত কমিটি এবং সংসদ সচিবালয় কমিশনের প্রধান হিসেবে স্পিকার চাইলে এ সংক্রান্ত বিধিমালার প্রস্তাব এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিক হিসেবে স্পিকার তাঁর অবস্থান থেকে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্যসমূহ