ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার রায় ঘোষণা আগামী ২২ ডিসেম্বর

ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার রায় ঘোষণা আগামী ২২ ডিসেম্বর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলাজনিত মৃত্যু মামলার বিচারকাজ দীর্ঘ ছয় মাস শুনানি শেষে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে বৃহস্পতিবার আদালত নিশ্চিত করেছে।

মামলায় অভিযুক্ত সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ম্যারাডোনার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করে দায়িত্বে চরম অবহেলা প্রদর্শন করা হয়েছিল। শুনানির শেষ দিনে ম্যারাডোনার জ্যেষ্ঠ কন্যা দালমা ম্যারাডোনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালতে বলেন, “আমি আশা করি আমার বাবা ন্যায়বিচার পাবেন, যা তাঁর প্রাপ্য—অন্য যেকোনো সাধারণ মানুষের মতোই।” বিপরীতে মামলার প্রধান আসামি ও ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকে আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমাকে আক্রমণ করা সহজ, কারণ আমিই দিয়েগোর সবচেয়ে কাছে ছিলাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।”

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসের তিগ্রে শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে মারা যান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা। মস্তিষ্কের একটি অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমাকে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই বিচারে ৭০ জনের বেশি সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে ৪ থেকে ১২ বছর মেয়াদের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তবে লুকের আইনজীবীরা তাঁকে এই মামলার ‘বলির পাঁঠা’ বলে দাবি করেছেন।

আদালতে শুনানির মূল বিতর্ক ছিল—ম্যারাডোনাকে আধুনিক হাসপাতালের বদলে একটি ব্যক্তিগত ভাড়া বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন অবহেলা ছিল কি না। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতে প্রমাণ তুলে ধরে জানান, ওই বাড়িতে জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম, যেমন হাসপাতালের উপযোগী বিশেষ বিছানা, ডিফিব্রিলেটর বা স্ট্যান্ডবাই অ্যাম্বুলেন্সের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়া সাক্ষ্য দেওয়া চিকিৎসকেরা জানান, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীরে পানি জমা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক লক্ষণ প্রকাশ পেলেও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা কোনো কার্যকর জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

ট্যাগ : ম্যারাডোনা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


ম্যারাডোনার মৃত্যু মামলার রায় ঘোষণা আগামী ২২ ডিসেম্বর

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনার চিকিৎসায় অবহেলাজনিত মৃত্যু মামলার বিচারকাজ দীর্ঘ ছয় মাস শুনানি শেষে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে বৃহস্পতিবার আদালত নিশ্চিত করেছে।

মামলায় অভিযুক্ত সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ম্যারাডোনার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করে দায়িত্বে চরম অবহেলা প্রদর্শন করা হয়েছিল। শুনানির শেষ দিনে ম্যারাডোনার জ্যেষ্ঠ কন্যা দালমা ম্যারাডোনা কান্নাজড়িত কণ্ঠে আদালতে বলেন, “আমি আশা করি আমার বাবা ন্যায়বিচার পাবেন, যা তাঁর প্রাপ্য—অন্য যেকোনো সাধারণ মানুষের মতোই।” বিপরীতে মামলার প্রধান আসামি ও ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকে আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমাকে আক্রমণ করা সহজ, কারণ আমিই দিয়েগোর সবচেয়ে কাছে ছিলাম। তিনি ছিলেন আমার আদর্শ ও বন্ধু।”

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসের তিগ্রে শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬০ বছর বয়সে মারা যান ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা। মস্তিষ্কের একটি অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া এবং ফুসফুসে পানি জমাকে মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই বিচারে ৭০ জনের বেশি সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে ৪ থেকে ১২ বছর মেয়াদের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তবে লুকের আইনজীবীরা তাঁকে এই মামলার ‘বলির পাঁঠা’ বলে দাবি করেছেন।

আদালতে শুনানির মূল বিতর্ক ছিল—ম্যারাডোনাকে আধুনিক হাসপাতালের বদলে একটি ব্যক্তিগত ভাড়া বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন অবহেলা ছিল কি না। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা আদালতে প্রমাণ তুলে ধরে জানান, ওই বাড়িতে জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় কোনো সরঞ্জাম, যেমন হাসপাতালের উপযোগী বিশেষ বিছানা, ডিফিব্রিলেটর বা স্ট্যান্ডবাই অ্যাম্বুলেন্সের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়া সাক্ষ্য দেওয়া চিকিৎসকেরা জানান, মৃত্যুর আগে ম্যারাডোনার শরীরে পানি জমা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক লক্ষণ প্রকাশ পেলেও দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা কোনো কার্যকর জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ