ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রথমবারের মতো ১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর

প্রথমবারের মতো ১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এটিকে একটি ধর্মীয় ও ‘দাওয়াতি সফর’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিশ্লেষক ও দলীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশ এটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে দলের বৈশ্বিক পরিচিতি এবং সুফি দর্শনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে কয়েক মাস আগে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের করা ‘কাফেলা আমেরিকার দিকে’ মন্তব্যের সূত্র টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সফর ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আন নূর ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ১৪ দিনের সফরে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন চরমোনাই পীর। ১৪ অক্টোবর তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দারুল উলুম নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট সরদার বরকাতুল্লাহসহ স্থানীয় ইসলামিক স্কলাররা তাঁকে স্বাগত জানান। সফরে তিনি নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময়, মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি এবং ওয়াজ-মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের অভিমত, পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশভিত্তিক ধর্মীয় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর পরিচিতি থাকলেও ইসলামী আন্দোলন সেভাবে দৃশ্যমান ছিল না। আমিরের এই সফর সেই ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি পশ্চিমা মুসলিম কমিউনিটিতে মধ্যপন্থি সুফি ইসলামের চর্চাকে তুলে ধরবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেটিজেনদের একাংশ গত ২২ জুলাই বরিশালে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করীমের দেওয়া একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ওই সময় ফয়জুল করীম বলেছিলেন, “আমরা চলতেছিলাম মদিনার দিকে... হঠাৎ দেখি কাফেলা চলতেছে আমেরিকার দিকে। মদিনাওয়ালারা আমেরিকা যেতে পারে না।” এখন দলের প্রধানেরই যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিরোধী মতাবলম্বীরা দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলছেন।

সমালোচনার জবাবে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, চরমোনাই পীর সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাননি এবং সেখানে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে দল আমেরিকার পররাষ্ট্র বা রাজনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি সম্পূর্ণ দ্বীনি ও দাওয়াতি উদ্দেশ্যে প্রবাসীদের আহ্বানে গেছেন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন মিশিগান ও বাফেলোসহ বিভিন্ন শহরের ইসলামিক সেন্টারে তাঁর একাধিক ইসলাহি বয়ান ও ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

ট্যাগ : চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রে

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


প্রথমবারের মতো ১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এটিকে একটি ধর্মীয় ও ‘দাওয়াতি সফর’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিশ্লেষক ও দলীয় নীতিনির্ধারকদের একাংশ এটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে দলের বৈশ্বিক পরিচিতি এবং সুফি দর্শনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তবে কয়েক মাস আগে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের করা ‘কাফেলা আমেরিকার দিকে’ মন্তব্যের সূত্র টেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সফর ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আন নূর ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ১৪ দিনের সফরে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন চরমোনাই পীর। ১৪ অক্টোবর তিনি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দারুল উলুম নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট সরদার বরকাতুল্লাহসহ স্থানীয় ইসলামিক স্কলাররা তাঁকে স্বাগত জানান। সফরে তিনি নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে মতবিনিময়, মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি এবং ওয়াজ-মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন।

ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের অভিমত, পশ্চিমা বিশ্বে বাংলাদেশভিত্তিক ধর্মীয় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর পরিচিতি থাকলেও ইসলামী আন্দোলন সেভাবে দৃশ্যমান ছিল না। আমিরের এই সফর সেই ঘাটতি পূরণ করার পাশাপাশি পশ্চিমা মুসলিম কমিউনিটিতে মধ্যপন্থি সুফি ইসলামের চর্চাকে তুলে ধরবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নেটিজেনদের একাংশ গত ২২ জুলাই বরিশালে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করীমের দেওয়া একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ওই সময় ফয়জুল করীম বলেছিলেন, “আমরা চলতেছিলাম মদিনার দিকে... হঠাৎ দেখি কাফেলা চলতেছে আমেরিকার দিকে। মদিনাওয়ালারা আমেরিকা যেতে পারে না।” এখন দলের প্রধানেরই যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে বিরোধী মতাবলম্বীরা দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলছেন।

সমালোচনার জবাবে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, চরমোনাই পীর সেখানে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাননি এবং সেখানে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে দল আমেরিকার পররাষ্ট্র বা রাজনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি সম্পূর্ণ দ্বীনি ও দাওয়াতি উদ্দেশ্যে প্রবাসীদের আহ্বানে গেছেন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। সফরসূচি অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন মিশিগান ও বাফেলোসহ বিভিন্ন শহরের ইসলামিক সেন্টারে তাঁর একাধিক ইসলাহি বয়ান ও ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ