ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কোনো পারমাণবিক উপাদান বাইরে পাঠানো হবে না: মোহসেন রেজায়ি

কোনো পারমাণবিক উপাদান বাইরে পাঠানো হবে না: মোহসেন রেজায়ি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদানই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা বা সমঝোতা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেহরান সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত আট মাস ধরে চলা তীব্র আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তেল আবিবে অঘোষিত বৈঠকের ঠিক পরদিনই তেহরান থেকে এই অনমনীয় বার্তা এল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান অন্যতম শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে ইসলামাবাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় গত জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় পক্ষ ফের নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ালে সেই ঐতিহাসিক সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়। এর পর থেকেই দুপক্ষের আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে।

এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি। তেহরানের আনুষ্ঠানিক দাবি তাদের পরমাণু প্রকল্প পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সীমিত করে বেসামরিক চাহিদার তুলনায় উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। এর বিপরীতে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি জানিয়ে আসছে। এমনকি চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানান, চুক্তি করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দৃশ্যমানভাবে কমাতে হবে।

তবে তেহরান এই মার্কিন চাপ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে মোহসেন রেজায়ি ঘোষণা করেন, “একটুখানি সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানও ইরানের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে যাবে না। এসব উপাদান ইরানের জনগণের কষ্টার্জিত জাতীয় সম্পদ এবং তা দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় যাবে না তেহরান; আর সেই আস্থার সূচনা হতে হবে ইরানের শর্ত পূরণের মাধ্যমে।”

ইরানি সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতার সম্ভাবনা ও সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। স্পিকার গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ফের উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো পূরণ না করলে তেহরানের আস্থা অর্জন অসম্ভব।

যুদ্ধের সূচনা থেকেই বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে রেখেছে ইরান। তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রণালি অবরোধের জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা, ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব সামরিক ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করা; যার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল বনাম ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ট্যাগ : ইরান পারমাণবিক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


কোনো পারমাণবিক উপাদান বাইরে পাঠানো হবে না: মোহসেন রেজায়ি

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামসহ কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদানই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে দেশটির দেওয়া পূর্বশর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনা বা সমঝোতা হবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেহরান সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গত আট মাস ধরে চলা তীব্র আঞ্চলিক সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তেল আবিবে অঘোষিত বৈঠকের ঠিক পরদিনই তেহরান থেকে এই অনমনীয় বার্তা এল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমন ও একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান অন্যতম শীর্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এর আগে ইসলামাবাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় গত জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় পক্ষ ফের নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়ালে সেই ঐতিহাসিক সমঝোতা কার্যত ভেস্তে যায়। এর পর থেকেই দুপক্ষের আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্পূর্ণ থমকে রয়েছে।

এই বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি। তেহরানের আনুষ্ঠানিক দাবি তাদের পরমাণু প্রকল্প পুরোপুরি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হলেও তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সীমিত করে বেসামরিক চাহিদার তুলনায় উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। এর বিপরীতে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসের দাবি জানিয়ে আসছে। এমনকি চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানান, চুক্তি করতে হলে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা দৃশ্যমানভাবে কমাতে হবে।

তবে তেহরান এই মার্কিন চাপ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে মোহসেন রেজায়ি ঘোষণা করেন, “একটুখানি সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদানও ইরানের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে যাবে না। এসব উপাদান ইরানের জনগণের কষ্টার্জিত জাতীয় সম্পদ এবং তা দেশের অভ্যন্তরেই ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনায় যাবে না তেহরান; আর সেই আস্থার সূচনা হতে হবে ইরানের শর্ত পূরণের মাধ্যমে।”

ইরানি সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতার সম্ভাবনা ও সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। স্পিকার গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ফের উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো পূরণ না করলে তেহরানের আস্থা অর্জন অসম্ভব।

যুদ্ধের সূচনা থেকেই বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে রেখেছে ইরান। তেহরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রণালি অবরোধের জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা, ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব সামরিক ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করা; যার মধ্যে লেবাননে ইসরায়েল বনাম ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধও অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ