সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ এক বাঁচা-মরার ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে আসরে বেশ চাপে পড়েছে টাইগাররা। টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ও অলিখিত নকআউট ম্যাচটি বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় মাঠে গড়াবে।
গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার জন্য এই ম্যাচে কেবল জয় পেলেই চলবে না, জিম্বাবুয়েকে নেট রান রেটে পেছনে ফেলতে বাংলাদেশকে মেলাতে হবে বেশ জটিল সমীকরণ। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দেওয়ায় তারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আফগানদের নেট রান রেট +৩.১৬০, যা তাদের ফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই মসৃণ রেখেছে। বিপরীতে, দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে -০.৫৯০ নেট রান রেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে জিম্বাবুয়ে এবং এক হারে -১.৯৮০ নেট রান রেট নিয়ে তালিকার তলানিতে রয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।
ফাইনালে পৌঁছাতে হলে আজ আগে ব্যাট করলে বাংলাদেশকে ন্যূনতম ৪১ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, রান তাড়া করতে নামলে প্রতিপক্ষের লক্ষ্যমাত্রার ওপর নির্ভর করবে জয়ের ওভারের সীমা। সমীকরণ অনুযায়ী:
২০০ রানের লক্ষ্য হলে: জয় নিশ্চিত করতে হবে ৪০.২ ওভারের মধ্যে।
২২০ রানের লক্ষ্য হলে: লক্ষ্য স্পর্শ করতে হবে ৪০.৫ ওভারে।
২৪০ রানের লক্ষ্য হলে: ম্যাচ শেষ করতে হবে ৪১.১ ওভারে।
২৫০ রানের লক্ষ্য হলে: জয় পেতে হবে ৪১.৩ ওভারের ভেতর।
২৬০ রানের ক্ষেত্রে: ৪১.৪ ওভার।
২৭০ রানের ক্ষেত্রে: ৪১.৫ ওভার।
২৮০ রানের ক্ষেত্রে: ৪২.০ ওভার।
৩০০ রানের লক্ষ্য হলে: পৌঁছাতে হবে ৪২.২ ওভারের মধ্যে।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে ওয়ানডেতে দুই দল এখন পর্যন্ত মোট ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে দুই দলেরই জয় সমান ১১টি করে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে টাইগারদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে আফগানরা। সর্বশেষ ছয়টি ওয়ানডে লড়াইয়ের পাঁচটিতেই বাংলাদেশকে হারিয়েছে আফগানিস্তান, যার প্রতিটি জয়ই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবির কন্ডিশনে।
দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ:
বাংলাদেশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত/মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।
আফগানিস্তান: রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), সেদিকুল্লাহ আতাল, ইব্রাহিম জাদরান, রহমত শাহ (অধিনায়ক), হাশমতউল্লাহ শহিদি, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, জিয়া-উর-রহমান শরিফি, ফজল হক ফারুকি ও ইয়ামিন আহমদজাই।
মন্তব্যসমূহ