মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো প্রধান আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ১০৯ দশমিক ৬৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে সমুদ্রে একটি শক্তিশালী মাইনে আঘাত লেগে একটি বিশালাকার তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিধি ও ইরানের নিয়ম অমান্য করে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছিল। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম কেপলারের (Kpler) প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এই সংবেদনশীল অঞ্চলের নৌপথে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে লোহিত সাগর অঞ্চলে নতুন সংকট তৈরি করে সৌদি আরামকোর ইয়ানবু তেল স্থাপনা এবং শায়বাহ তেলক্ষেত্রে হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
এর আগে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের মধ্যে তেহরানে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হওয়ায় তেলের বাজার সাময়িকভাবে কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছিল। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হরমুজে ট্যাংকারে আগুন ও সৌদি আরবে হামলার খবর সামনে আসায় বাজারে ফের উল্লম্ফন ঘটে। এর ওপর যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব ডিজেল মজুতের তীব্র ঘাটতি জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে;
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ