ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সংঘাত নিরসন ও শান্তি আলোচনায় নিজেদের পূর্বশর্ত বাস্তবায়নের জন্য ওয়াশিংটনকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের উত্থাপিত শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে না নিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধই থাকবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরাকভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল ইখবারিয়া’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি প্রকাশ করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এখনো সক্রিয় রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শর্তগুলো বাস্তবায়ন শুরু করে, তবে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আরাগচির দাবি, ওয়াশিংটন প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইরানের উত্থাপিত মূল শর্তগুলোতে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে; তবে তারা মূল কাঠামোর বাইরে আরও কিছু অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় চূড়ান্ত অগ্রগতি থমকে রয়েছে।

কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো পুরোপুরি রুদ্ধ হয়নি উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, “আলোচনার টেবিল এখনো বিদ্যমান।” তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সাড়া দিয়ে শর্তগুলো মেনে চললে তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ উন্মুক্ত করা হবে এবং এরপর উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রাখা যাবে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নতুন কোনো বিষয়ে সমঝোতায় যাওয়ার আগে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেওয়া অতীতের সমস্ত প্রতিশ্রুতি আগে অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করতে হবে।

এদিকে আলোচনায় আরেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ভবিষ্যৎ। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশ বা পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তাব তেহরান কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

রেজাই স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনার টেবিলে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে হলে সবার আগে ওয়াশিংটনকে বিশ্বাসযোগ্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল অবমুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত যুদ্ধ ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

ট্যাগ : ইরান আব্বাস আরাগচি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বিপক্ষীয় সংঘাত নিরসন ও শান্তি আলোচনায় নিজেদের পূর্বশর্ত বাস্তবায়নের জন্য ওয়াশিংটনকে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওয়াশিংটন তেহরানের উত্থাপিত শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে না নিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধই থাকবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরাকভিত্তিক স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল ইখবারিয়া’কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি প্রকাশ করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরোক্ষ কূটনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান এখনো সক্রিয় রয়েছে। তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শর্তগুলো বাস্তবায়ন শুরু করে, তবে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আরাগচির দাবি, ওয়াশিংটন প্রাথমিক পর্যালোচনায় ইরানের উত্থাপিত মূল শর্তগুলোতে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে; তবে তারা মূল কাঠামোর বাইরে আরও কিছু অতিরিক্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করায় চূড়ান্ত অগ্রগতি থমকে রয়েছে।

কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো পুরোপুরি রুদ্ধ হয়নি উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, “আলোচনার টেবিল এখনো বিদ্যমান।” তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচক সাড়া দিয়ে শর্তগুলো মেনে চললে তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ উন্মুক্ত করা হবে এবং এরপর উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত রাখা যাবে। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নতুন কোনো বিষয়ে সমঝোতায় যাওয়ার আগে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেওয়া অতীতের সমস্ত প্রতিশ্রুতি আগে অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করতে হবে।

এদিকে আলোচনায় আরেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ভবিষ্যৎ। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশ বা পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তাব তেহরান কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

রেজাই স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনার টেবিলে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে হলে সবার আগে ওয়াশিংটনকে বিশ্বাসযোগ্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার, তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, বিদেশে আটকে থাকা রাষ্ট্রীয় তহবিল অবমুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত যুদ্ধ ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ