ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সারা দেশে সরকারের দেওয়া ২২ দিনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও পদ্মা নদীতে থামছে না মা ইলিশ শিকার। দিনরাত সমানতালে আইন অমান্য করে মাছ শিকারের পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে সরাসরি হামলার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে জেলেরা। শরীয়তপুরের জাজিরায় খোদ স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে যৌথবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়েছে অসাধু জেলেরা। তবে হামলার মুখেও শক্ত অবস্থান বজায় রেখে ৩৬ জেলেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার সকালে জাজিরার পালেরচর সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আহমেদ আসলাম, জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেবের উপস্থিতিতে প্রশাসন ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করছিল। উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা নৌকা থেকে অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে ধাওয়া দিলে তারা পিছু হটে। ঘটনাস্থল থেকে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় দিনভর সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
এদিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টেও প্রকাশ্যে চলছে মা ইলিশ নিধন। উপজেলার কাউয়ালজানি, মুন্সিবাজার ও কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত নৌকায় ইলিশ ধরা হচ্ছে এবং নদীর তীরেই অস্থায়ী বাজার বসিয়ে ক্রেতাদের কাছে তা বিক্রি করা হচ্ছে। গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, গত ১২ দিনে ৪২টি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল ও মাছ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ জন জেলেকে কারাদণ্ড ও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। দৌলতদিয়া নৌপুলিশের ওসি ত্রিনাথ সাহা জানান, সীমিত জনবল নিয়েও নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জেও পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ছয় জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও কোস্ট গার্ড। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, উদ্ধার করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফরিদপুরের সদরপুরে পদ্মা নদী থেকে ৮০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৫ কেজি মা ইলিশসহ তিন জেলেকে আটক করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর। আটককৃতরা হলেন—রুবেল হোসেন, হিরন কাড়াল ও কুদ্দুস খলিফা। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আবরার স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বহাল থাকা পর্যন্ত ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্যসমূহ