ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি পরিহার করে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বাস ও ধর্মাচারের ভিন্নতা মানুষের একান্ত নিজস্ব বিষয় হলেও জাতীয় ক্ষেত্রে সবার একমাত্র এবং চূড়ান্ত পরিচয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের চণ্ডিপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের কোনো অবস্থাতেই দুর্বল বা ছোট ভাবার সুযোগ নেই; সংবিধানে ও রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার পুরোপুরি সমান। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সার্বজনীন সমঅধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক দৃঢ়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়ত সাহসী ও সময়োপযোগী কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, “কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডানে-বামে তাকিয়ে দেখেন না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি কে, কিংবা এতে কে লাভবান বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং তিনি কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক। বর্তমান সরকার কেবল একটাই মানদণ্ড বিবেচনা করছে—দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য কোনটি সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর। সেই নীতি বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং কোনো চাপের মুখেই এর থেকে একচুলও পিছিয়ে যাওয়া হবে না।”
এর আগে রাত সাড়ে ৮টায় ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন চণ্ডিপুর মন্দির প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছালে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। এ সময় হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহদি ইমাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ