বিগত ২০ বছরে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন চায়নি ক্ষমতাসীনরা: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস। দলবাজির ক্যাম্পাস হবে না।”শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১টায় দিনাজপুর সরকারি কলেজের হলরুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিগত ২০ বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা শিক্ষার উন্নয়ন চাননি বলে অভিযোগ করেন জাহিদ হোসেন। তার ভাষ্য, দেশের মানুষের ওপর তাদের আস্থা ছিল না; বরং তারা যাদের ‘মুরুব্বি’ মনে করতেন, তাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন।সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, তাদের ধারণা ছিল, সেই ‘মুরুব্বিরা’ যত দিন ক্ষমতায় রাখতে পারবেন, তত দিন তারা ক্ষমতায় থাকবেন। তবে ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগকে তারাও ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেননি এবং এরপর আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের কাছেই আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন জাহিদ হোসেন। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কলেজ থেকে জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক অর্জনকারী এক হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র ও ৪০০ জন ছাত্রী।ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৭২টি ইভেন্টে প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা ৬ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জনকারীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এতে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান।