ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে উচ্ছ্বসিত নেতানিয়াহু

ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে উচ্ছ্বসিত নেতানিয়াহু
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া এক বিশেষ টেলিফোন কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন। ওই ফোনালাপে ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতানিয়াহুর নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ের পূর্বাভাস দিতে এবং ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যৌথ সামরিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে শোনা যায়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রচারণার সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা এই দ্ব্যর্থহীন সমর্থনকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে সচেষ্ট ডানপন্থি নেতা নেতানিয়াহু। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে তাঁর জনপ্রিয় ডাকনাম ‘বিবি’ সম্বোধন করে বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। বিবি, আমি আপনাকে সবসময় আমার পাশে দেখতে চাই।” কথোপকথন চলাকালে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে ফোনালাপটি সবার জন্য উন্মুক্ত লাইনে চলছে। এরপরই গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে পরিচালিত যৌথ সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড, আমাদের এখনও একটি কাজ সমাপ্ত করা বাকি রয়ে গেছে। আমরা একসঙ্গেই সেই কাজটি সম্পন্ন করব, অন্য কেউ তা করবে না।” যদিও সেই ‘অসমাপ্ত কাজ’ বলতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কী বুঝিয়েছেন, তা খোলসা করেননি নেতানিয়াহু; তবে তিনি বরাবরের মতো ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকেই মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’ বলে অভিহিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বহু বছর ধরে তেহরানে হামলার জন্য ওয়াশিংটনের অকুণ্ঠ সমর্থনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে নীতি পরিবর্তন করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটায় ইসরায়েলি জনমতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। যদিও সেই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে অকার্যকর ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষক ডেভিড মাকোভস্কি মনে করেন, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের রাজনীতিতে অত্যন্ত মেরুকরণ সৃষ্টিকারী এক চরিত্র, ফলে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে যখন খোদ ওয়াশিংটনের ভেতরেই ইসরায়েলের সামরিক নীতি নিয়ে গভীর মতবিরোধ বিদ্যমান। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যেই ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ইসরায়েলের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ছাড়া তেল আবিবের কোনো বিকল্প মিত্র নেই এবং তাদের উচিত সর্বাবস্থায় মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সংগতি বজায় রেখে চলা।

সূত্র: এএফপি

ট্যাগ : ইসরাইল নির্বাচন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


ইসরাইলের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সমর্থন পেয়ে উচ্ছ্বসিত নেতানিয়াহু

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি ও প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া এক বিশেষ টেলিফোন কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশ্যে আনেন। ওই ফোনালাপে ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নেতানিয়াহুর নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ের পূর্বাভাস দিতে এবং ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যৌথ সামরিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে শোনা যায়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রচারণার সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা এই দ্ব্যর্থহীন সমর্থনকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে সচেষ্ট ডানপন্থি নেতা নেতানিয়াহু। ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে তাঁর জনপ্রিয় ডাকনাম ‘বিবি’ সম্বোধন করে বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। বিবি, আমি আপনাকে সবসময় আমার পাশে দেখতে চাই।” কথোপকথন চলাকালে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে ফোনালাপটি সবার জন্য উন্মুক্ত লাইনে চলছে। এরপরই গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে পরিচালিত যৌথ সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ডোনাল্ড, আমাদের এখনও একটি কাজ সমাপ্ত করা বাকি রয়ে গেছে। আমরা একসঙ্গেই সেই কাজটি সম্পন্ন করব, অন্য কেউ তা করবে না।” যদিও সেই ‘অসমাপ্ত কাজ’ বলতে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কী বুঝিয়েছেন, তা খোলসা করেননি নেতানিয়াহু; তবে তিনি বরাবরের মতো ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকেই মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’ বলে অভিহিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বহু বছর ধরে তেহরানে হামলার জন্য ওয়াশিংটনের অকুণ্ঠ সমর্থনের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে নীতি পরিবর্তন করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটায় ইসরায়েলি জনমতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। যদিও সেই যুদ্ধবিরতি বর্তমানে অকার্যকর ও ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির গবেষক ডেভিড মাকোভস্কি মনে করেন, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের রাজনীতিতে অত্যন্ত মেরুকরণ সৃষ্টিকারী এক চরিত্র, ফলে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে যখন খোদ ওয়াশিংটনের ভেতরেই ইসরায়েলের সামরিক নীতি নিয়ে গভীর মতবিরোধ বিদ্যমান। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যেই ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ইসরায়েলের পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ছাড়া তেল আবিবের কোনো বিকল্প মিত্র নেই এবং তাদের উচিত সর্বাবস্থায় মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সংগতি বজায় রেখে চলা।

সূত্র: এএফপি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ