ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলের জন্য গত চার বছরের বেশি সময়ে রাশিয়া ১৫ বার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু প্রতিবারই সেই সময়সীমা পিছিয়ে দিতে হয়েছে মস্কোকে।
সোমবার দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আগের দিনের বক্তব্যের জবাব দেন জেলেনস্কি।
রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পুতিন দাবি করেন, ইউক্রেন দূরপাল্লার হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধের তীব্রতা কমানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি কিয়েভের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ কমানোর কৌশল মাত্র।
জবাবে জেলেনস্কি বলেন, পুতিনের বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি সাধারণ রুশ নাগরিকদের বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে এবং মানুষকে পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও রাশিয়া এখন জ্বালানি সংকটে পড়েছে। এটি যুদ্ধের সরাসরি পরিণতি। জেলেনস্কির ভাষায়, ইউক্রেন বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাস চালাচ্ছে না; বরং নির্ভুল সামরিক হামলার মাধ্যমে জবাব দিচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেনের হামলার কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিমিয়া, দক্ষিণ রাশিয়া, সাইবেরিয়া এবং মস্কোর কিছু এলাকায় জ্বালানি বিক্রিতে সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘ সারির খবর পাওয়া গেছে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো ডনবাস দখলের লক্ষ্যেই আচ্ছন্ন। তবে রাশিয়া যদি যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে ডনবাস দখলের নির্ধারিত সময়সীমা আবারও পিছিয়ে দিতে হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর রাশিয়া প্রথমে রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা করে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসে অভিযান জোরদার করে।
বর্তমানে রাশিয়া লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় পুরোটা এবং দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে দোনেৎস্কের পশ্চিম দিকে রুশ অগ্রযাত্রার গতি সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে বলে ইউক্রেনের দাবি। একই সময় ইউক্রেন মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু রাশিয়া প্রতিবারই সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি রুশ নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, যারা এখনো সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত হননি এবং জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা নিয়ে এখনই ভাবা উচিত।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ