ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, অভিযোগ ট্রাম্পের

জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, অভিযোগ ট্রাম্পের
ফাইল ছবি
ফলো করুন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সংঘাতের অবসান চান না বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “জেলেনস্কি এতে মোটেও তোয়াক্কা করছেন না। সত্যি বলতে, ইউরোপ তাকে যেভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে... তিনি এই যুদ্ধ থামাতেই চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি।”

রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প।

তাঁর দাবি, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। এমন কোনো পদক্ষেপ তিনি নিতে চান না, যাতে মস্কো আলোচনা থেকে সরে যায়।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া সংক্রান্ত আমার সিদ্ধান্ত একেবারে সাধারণ। আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এমন কোনো বোকার মতো কাজ করতে চাই না; যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।”

সম্প্রতি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কিছু বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মওকুফ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রদত্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নিষেধাজ্ঞা প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে আনা হয়েছিল। তাঁকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে লিন্ডসে গ্রাহামের পরিচয় ও তাঁর নামে নিষেধাজ্ঞা আনার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকেও সাময়িকভাবে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য কমানোর উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলসংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তে ইউক্রেন ও তার মিত্ররা বিস্মিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় ‘বিশাল অগ্রগতি’ হচ্ছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টিও রয়েছে।

সম্ভাব্য একটি নথিতে স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই সময়ে নথিতে স্বাক্ষর করলে তা হতে পারতো, আর আমি এটা চাইলে পরেও স্বাক্ষর করতে পারি, কিংবা যেকোনো সময় স্বাক্ষর করতে পারি!”

তবে তিনি কোন নথির কথা বলেছেন কিংবা সেটির সঙ্গে শান্তি আলোচনার কী সম্পর্ক, তা স্পষ্ট করেননি।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

পোস্টে ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “শুনতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া বর্তমানে তাদের সাহায্য করতে যৎ সামান্য করছে। আমি বিষয়টি এভাবেই রাখতে চাই এবং রাখব; যদি না কিছু নির্বোধ লোক এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

এ ছাড়া রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের অভিযোগ, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তিনি বলেন, “জেলেনস্কি জেনেবুঝেই রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। কারণ তিনি জানেন এই হামলাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব ডিজেল বাজারে চরম আঘাত হানছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জরিপ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে—ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়াও প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন রাশিয়া ভলোদিমির জেলেনস্কি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


জেলেনস্কি যুদ্ধ শেষ করতে চান না, অভিযোগ ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সংঘাতের অবসান চান না বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “জেলেনস্কি এতে মোটেও তোয়াক্কা করছেন না। সত্যি বলতে, ইউরোপ তাকে যেভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা দিচ্ছে... তিনি এই যুদ্ধ থামাতেই চান না, সম্ভবত কখনোই চাননি।”

রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল বা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প।

তাঁর দাবি, শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। এমন কোনো পদক্ষেপ তিনি নিতে চান না, যাতে মস্কো আলোচনা থেকে সরে যায়।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া সংক্রান্ত আমার সিদ্ধান্ত একেবারে সাধারণ। আমি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মাঝে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং এমন কোনো বোকার মতো কাজ করতে চাই না; যা রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।”

সম্প্রতি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কিছু বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে মওকুফ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রদত্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব নিষেধাজ্ঞা প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে আনা হয়েছিল। তাঁকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে লিন্ডসে গ্রাহামের পরিচয় ও তাঁর নামে নিষেধাজ্ঞা আনার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার ডিজেলের ওপর থেকেও সাময়িকভাবে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সামনে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানো এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্য কমানোর উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেলসংক্রান্ত এই সিদ্ধান্তে ইউক্রেন ও তার মিত্ররা বিস্মিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় ‘বিশাল অগ্রগতি’ হচ্ছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টিও রয়েছে।

সম্ভাব্য একটি নথিতে স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই সময়ে নথিতে স্বাক্ষর করলে তা হতে পারতো, আর আমি এটা চাইলে পরেও স্বাক্ষর করতে পারি, কিংবা যেকোনো সময় স্বাক্ষর করতে পারি!”

তবে তিনি কোন নথির কথা বলেছেন কিংবা সেটির সঙ্গে শান্তি আলোচনার কী সম্পর্ক, তা স্পষ্ট করেননি।

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

পোস্টে ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, “শুনতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া বর্তমানে তাদের সাহায্য করতে যৎ সামান্য করছে। আমি বিষয়টি এভাবেই রাখতে চাই এবং রাখব; যদি না কিছু নির্বোধ লোক এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।”

এ ছাড়া রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের অভিযোগ, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে রাশিয়ার শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

তিনি বলেন, “জেলেনস্কি জেনেবুঝেই রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছেন। কারণ তিনি জানেন এই হামলাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব ডিজেল বাজারে চরম আঘাত হানছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা জরিপ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতি নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে হামলা চালাচ্ছে—ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়াও প্রদত্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ