ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান প্রতিহত করতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার এবং আঞ্চলিক তেল-গ্যাস স্থাপনা ধ্বংসের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। তেহরানের কৌশলগত লক্ষ্য হলো, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু করার চড়া মূল্য কতটা হতে পারে, তা স্পষ্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিবৃত্ত রাখা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এক মাসে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডাররা একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্যে নতুন অস্ত্রের মজুত ও ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি ঘোষণা দেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি, বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং বিশ্ব এবার এমন সব অপ্রচলিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা দেখবে যা আগে কখনোই দেখা যায়নি।’

এদিকে ৯ মাস ধরে চলা এই অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোতে নতুন হামলার ছক তৈরি করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি (GBU-43/B) ব্যবহারের বিকল্প পরিকল্পনাও হোয়াইট হাউসের টেবিলে রয়েছে। এর কড়া জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ডার আলিরেজা শেখ মন্তব্য করেন, জনগণকে ভয় দেখাতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, মূলত ইরানের জনগণই ‘সব বোমার মা’। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবার শুধু আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে শত্রু হামলার আগেই ‘আক্রমণাত্মক আগাম আঘাত’ হানার কৌশল নিতে পারে। অতি সম্প্রতি মহড়ায় একসঙ্গে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোন ঝাঁক (Swarm Drones) ব্যবহারের প্রস্তুতি সেই ইঙ্গিতই দেয়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে জার্মানির রামস্টাইন কিংবা যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটির মতো ইউরোপীয় ভূখণ্ডের মার্কিন সামরিক সরবরাহকেন্দ্রগুলোও ইরানের দূরপাল্লার নিশানায় পড়তে পারে।

কমান্ডারদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিপরীতে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ধস ও অবিরাম বিমান হামলার আশঙ্কায় তাঁরা জরুরি খাদ্য ও পানি মজুত করে রাত কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্ব ও বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ক্ষত ইরানি সমাজকে এখনো তাড়া করছে।

অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছেন যে সংঘাত বাড়লে আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও জটিল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিল জানিয়েছে, তারাও যেকোনো সামরিক হুমকি প্রতিহতে আগের চেয়ে বহু গুণ বেশি প্রস্তুত। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, তেহরান যে পদক্ষেপকে ‘প্রতিরোধমূলক ঢাল’ ভাবছে, ওয়াশিংটন তা ‘উসকানি’ হিসেবে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি মহাবিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নীতি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান প্রতিহত করতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। একই সঙ্গে সংঘাত এড়াতে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টার এবং আঞ্চলিক তেল-গ্যাস স্থাপনা ধ্বংসের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। তেহরানের কৌশলগত লক্ষ্য হলো, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু করার চড়া মূল্য কতটা হতে পারে, তা স্পষ্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিবৃত্ত রাখা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত এক মাসে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডাররা একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্যে নতুন অস্ত্রের মজুত ও ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি ঘোষণা দেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি, বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং বিশ্ব এবার এমন সব অপ্রচলিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা দেখবে যা আগে কখনোই দেখা যায়নি।’

এদিকে ৯ মাস ধরে চলা এই অচলাবস্থার মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোতে নতুন হামলার ছক তৈরি করেছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি (GBU-43/B) ব্যবহারের বিকল্প পরিকল্পনাও হোয়াইট হাউসের টেবিলে রয়েছে। এর কড়া জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ডার আলিরেজা শেখ মন্তব্য করেন, জনগণকে ভয় দেখাতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, মূলত ইরানের জনগণই ‘সব বোমার মা’। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবার শুধু আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ না থেকে শত্রু হামলার আগেই ‘আক্রমণাত্মক আগাম আঘাত’ হানার কৌশল নিতে পারে। অতি সম্প্রতি মহড়ায় একসঙ্গে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ড্রোন ঝাঁক (Swarm Drones) ব্যবহারের প্রস্তুতি সেই ইঙ্গিতই দেয়। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করলে জার্মানির রামস্টাইন কিংবা যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটির মতো ইউরোপীয় ভূখণ্ডের মার্কিন সামরিক সরবরাহকেন্দ্রগুলোও ইরানের দূরপাল্লার নিশানায় পড়তে পারে।

কমান্ডারদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বিপরীতে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ধস ও অবিরাম বিমান হামলার আশঙ্কায় তাঁরা জরুরি খাদ্য ও পানি মজুত করে রাত কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্ব ও বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ক্ষত ইরানি সমাজকে এখনো তাড়া করছে।

অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করেছেন যে সংঘাত বাড়লে আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও জটিল অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল ন্যাশনাল কাউন্সিল জানিয়েছে, তারাও যেকোনো সামরিক হুমকি প্রতিহতে আগের চেয়ে বহু গুণ বেশি প্রস্তুত। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, তেহরান যে পদক্ষেপকে ‘প্রতিরোধমূলক ঢাল’ ভাবছে, ওয়াশিংটন তা ‘উসকানি’ হিসেবে দেখলে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি মহাবিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: সিএনএন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ