ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইতালিজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আহত ১৪১ পুলিশ সদস্য

ইতালিজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আহত ১৪১ পুলিশ সদস্য
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং করের বোঝার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, প্রতিবেশী ফ্রান্সের মতো ইতালিতেও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশটির বিভিন্ন শহরের হাজারো মানুষ অংশ নেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিলানে প্রায় পাঁচ হাজার, তুরিনে তিন হাজার, বোলোনিয়ায় দুই হাজার, বেরগামোতে ৮০০ এবং ব্রেসিয়ায় ৬০০ জন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

শনিবার সহিংসতা, পুলিশের কাজে বাধা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরদিন রোববার আরও ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।

বিক্ষোভের সময় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায় মিলানে। সেখানে কয়েকটি দল পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষের মধ্যে শহরের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

মিলানে বিক্ষোভে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের বিক্ষোভে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তুরিনেও বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রলবোমা বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করা হয়।

অন্যদিকে বোলোনিয়ার রেলস্টেশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দিকে পাথর, বোতল ও ব্যারিকেড নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বোলোনিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন।

সহিংস বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।

তিনি জানান, তাঁর দল লিগ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য আয়োজকদের আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান রাখার কথা রয়েছে।

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষের কারণ উপলব্ধি করার কথা জানালেও পুলিশের ওপর হামলা ও শহরের সম্পদ ধ্বংসের নিন্দা জানিয়েছেন।

একইভাবে বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপো সহিংসতার সমালোচনা করে তরুণদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মধ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।

ট্যাগ : ইতালি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ইতালিজুড়ে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আহত ১৪১ পুলিশ সদস্য

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং করের বোঝার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।

ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, প্রতিবেশী ফ্রান্সের মতো ইতালিতেও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশটির বিভিন্ন শহরের হাজারো মানুষ অংশ নেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিলানে প্রায় পাঁচ হাজার, তুরিনে তিন হাজার, বোলোনিয়ায় দুই হাজার, বেরগামোতে ৮০০ এবং ব্রেসিয়ায় ৬০০ জন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

শনিবার সহিংসতা, পুলিশের কাজে বাধা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পরদিন রোববার আরও ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়।

বিক্ষোভের সময় সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা দেখা যায় মিলানে। সেখানে কয়েকটি দল পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড নিক্ষেপ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষের মধ্যে শহরের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইতালির সামরিক পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

মিলানে বিক্ষোভে সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের বিক্ষোভে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তুরিনেও বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রলবোমা বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করা হয়।

অন্যদিকে বোলোনিয়ার রেলস্টেশনের কাছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের দিকে পাথর, বোতল ও ব্যারিকেড নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বোলোনিয়ায় সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন।

সহিংস বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় নির্ধারণে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি।

তিনি জানান, তাঁর দল লিগ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য আয়োজকদের আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার বিধান রাখার কথা রয়েছে।

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বিক্ষোভকারীদের অসন্তোষের কারণ উপলব্ধি করার কথা জানালেও পুলিশের ওপর হামলা ও শহরের সম্পদ ধ্বংসের নিন্দা জানিয়েছেন।

একইভাবে বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপো সহিংসতার সমালোচনা করে তরুণদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের মধ্যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ