লেবাননের পুরো ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ইসরাইল সীমান্ত পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা জোরদার করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আউন বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুরো ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীই মূল ভূমিকা পালন করবে।
অ্যাডমিরাল কুপার লেবাননের সেনাপ্রধান রডলফ হাইকালের সঙ্গেও বৈঠক করেন। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৈঠকে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পুরো অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দক্ষিণ লেবাননের নির্ধারিত এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তিতে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের পথও রাখা হয়েছে, তবে তা হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে ইসরাইলের নেতারা জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনারা পুরোপুরি সরে যাবে না। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, লেবাননের ভূখণ্ড দখলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইসরাইলের নেই; তবে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার হবে না।
চুক্তি ঘিরে লেবাননের ভেতরেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। হিজবুল্লাহও নিরস্ত্রীকরণের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের সেনাবাহিনীকে সীমান্ত পর্যন্ত মোতায়েনের ঘোষণা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার বড় বার্তা হলেও হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ