যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন একটি নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তিতে সই করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করবে।
চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হলেও এতে লেবানন ইসরায়েলকে নতুনভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন দাবি সঠিক নয়। চুক্তিতে দুই দেশ পরস্পরের শান্তিপূর্ণভাবে অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার এবং যুদ্ধাবস্থার অবসানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
তবে চুক্তিটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির মহাসচিব নাঈম কাসিম একে ‘ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহ তাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
হিজবুল্লাহর দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ ও মায়ফাদুন এলাকায় ইসরায়েল আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলাকে তারা যুদ্ধবিরতির ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছে এবং নিজেদের মাতৃভূমি ও জনগণকে রক্ষার অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জোউন এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলের দাবি, প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ ওই টানেলটি হিজবুল্লাহর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও রকেট লঞ্চার মজুত ছিল। অভিযান শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছে তেল আবিব।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সময়ে দক্ষিণ লেবাননের একটি বর্ধিত নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
চুক্তি সই হলেও হিজবুল্লাহর আপত্তি এবং সীমান্তে চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা পুরোপুরি কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ