শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী। নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপস্থাপনা অতিথিদের প্রশংসা অর্জন করে। পরে মারকাযুল ফুরকানের মুগদা শাখার কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
শিক্ষকদের শ্রম, নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষককে পবিত্র ওমরাহ পালনের প্যাকেজ উপহার দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলহাজ কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপির। তবে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ায় তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। হাসপাতাল থেকেই সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে সংযুক্ত হন এবং সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে মারকাযুল ফুরকান শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন মাহমুদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ এবং শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতি ও দোয়া শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের আগামী দিনের পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব এমপি এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মহাপরিচালক মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকি আন-নদভী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবুল বাশার তালুকদার, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি এজাজ আহমেদ পিপিএম এবং পাহাড়ি টি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম এন ইসলাম মুনির।
দেশবরেণ্য আলেমদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি হাফেজ মাওলানা ক্বারী আব্দুল হক, মারকাযুত তারবিয়াহ বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, জামিয়া নেজামিয়া দারুল উলুম বেতুয়া, সিরাজগঞ্জের পরিচালক মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, জামিয়াতুল মানহাল আল কওমিয়া, উত্তরার পরিচালক মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আযহারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মুফতি আজহারুল ইসলাম ও মুফতি এবিএম শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জামেয়া ওবাইদিয়া সোলতানিয়া ইসলামিক সেন্টার, চট্টগ্রামের পরিচালক মাওলানা শেহাব উদ্দিন জমিরি, মারকাযুল হুফ্ফাজ ওয়াসসুন্নাহ আন্তর্জাতিক হিফজ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হক, আলোচক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী ও মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, আওয়ার ইসলাম২৪.কমের সম্পাদক মাওলানা হুমায়ূন আইয়ূব এবং শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুফতি শামীম মজুমদার।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন সাইফুরসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাইফুর রহমান খান, ডিপিডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল মনসুর, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ, মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান পিপিএম, মুগদা থানার ওসি মো. আহসান উল্লাহ এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা। অনুষ্ঠানে মিডিয়া সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন হাবিবুল্লাহ রায়হান।
দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দুপুর ১টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
মন্তব্যসমূহ