আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় ইবোলাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নতুন করে ৬৫ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। তিনি দেশটিতে আগে আক্রান্ত হওয়া দুই রোগীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। প্রতিবেশী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে কেনিয়ায় নতুন রোগী শনাক্তের ঘটনা সামনে এল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত ওই নারী গত ৬ অক্টোবর থেকে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। জ্বর, গলাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ার পর তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা হয় এবং পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়েই তাঁর শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি সহায়ক চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
কেনিয়ার কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দেশটিতে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণ প্রতিবেশী ডিআর কঙ্গোতে চলমান ইবোলার প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। কঙ্গোতে এই প্রাদুর্ভাবকে ইবোলার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ৯ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
কেনিয়ায় প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন একজন পুরুষ। প্রায় এক মাস কঙ্গোতে অসুস্থ থাকার পর তিনি সড়কপথে উগান্ডায় যান। পরে ৩ অক্টোবর বিমানে নাইরোবিতে পৌঁছান। তাঁর এক আত্মীয় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ৫ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেনিয়ায় শনাক্ত দ্বিতীয় রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দেশটির বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে কেনিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখা এবং চিকিৎসা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ