হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় নৌমাইনে আঘাত লেগে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। তবে এ ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ট্যাংকারটির পরিচয় এবং হতাহতের কোনো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের দাবি অনুযায়ী, ট্যাংকারটি তেহরানের অনুমোদন না থাকা একটি পথ দিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। আইআরজিসি এ চলাচলকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছে।
তবে জাহাজটির নাম, কোন দেশের পতাকাবাহী এটি, এর মালিকানা ও গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য জ্বালানিপণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান এমন নৌপথ এড়িয়ে চলতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে, যেগুলোকে তেহরান অননুমোদিত বলে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল একাধিকবার ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন হামলা ও নৌমাইনে আঘাত লাগার খবর জাহাজের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে সর্বশেষ ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইরানের দেওয়া তথ্য ছাড়া অন্য কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি, জাহাজটির পরিচয় এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ