বুধবার, ১৪ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গী শিল্প এলাকার স্কুইব রোডে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাটির সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর দুপুরে শিল্প পুলিশের গাজীপুর-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কারখানার ফ্যাক্টরি ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাঈদের স্বাক্ষরিত নোটিশেও ইউনিট-২ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
তবে কারখানাটি কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে নোটিশে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
আগুনের সূত্রপাত হয় বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে। প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের আরও ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।
সব মিলিয়ে ২১টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরও আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ চলতে থাকে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।
আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যসহ মোট পাঁচজন অসুস্থ বা আহত হন। ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর নূর উদ্দিন ও জহিরুল ইসলামকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ফায়ার ফাইটার কালাম প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছাড় পেয়েছেন।
কারখানার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, সেখানে প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করেন। চতুর্থ তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে শ্রমিকরা সতর্ক হন। পরে জরুরি অ্যালার্ম বাজানো হলে সবাই নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, সেখানে কোনো দাহ্য পদার্থ নেই। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্তের পরই আগুনের সঠিক কারণ জানা যাবে। একইভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
কারখানার একজন ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, ইউনিট-২-এর কিছু অংশ বন্ধ রয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে তিন-চার দিনের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে। তবে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নোটিশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে কারখানা কবে পুরোপুরি চালু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মন্তব্যসমূহ