জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধের প্রশাসনিক নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ বা জকসু।
বুধবার, ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে বিজ্ঞান অনুষদ এলাকা ঘুরে ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশ থেকে প্রশাসনের জারি করা নোটিশ প্রত্যাহার, ক্যাফেটেরিয়ার নিয়মিত মেনুতে গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা এবং ক্যাম্পাসে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
জকসুর নেতারা দাবি করেন, ক্যাম্পাসে পশু জবাই নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশ প্রত্যাহার করে প্রশাসনের প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশের দাবি জানান।
জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা ঘোষণা দেন, শুক্রবার বাদ জুমা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গরু ভোজের আয়োজন করা হবে। এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীনকেও আমন্ত্রণ জানান তিনি।
জকসুর সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে মোট চার দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিতর্কিত নোটিশ প্রত্যাহার ও দুঃখপ্রকাশ, নোটিশ দেওয়ার পেছনে কোনো অশুভ উদ্দেশ্য ছিল কি না তা তদন্ত, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় গরু ও খাসির মাংস অন্তর্ভুক্ত করা।
এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়। Bangla Tribune
অর্থাৎ, বিষয়টি এখন শুধু পশু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতি, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তির প্রশ্ন।
মন্তব্যসমূহ