সাতক্ষীরার দেবহাটায় ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনির শিকার ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর দুই দফায় হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে শামীমের বিরুদ্ধে। তাঁর কিছু কথোপকথন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। ওই সময় তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
পরে তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পারুলিয়া ও কুলিয়া এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে একদল উত্তেজিত ব্যক্তি কুলিয়ার ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পরে তাঁকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও তাঁর ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শামীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে; তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এদিকে শামীমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবহাটা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই ইব্রাহিম।
তিনি জানান, নিহতের মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন এএসআই ইব্রাহিম।
তিনি আরও জানান, কোনো অভিযোগের বিচার আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কাউকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা অপরাধ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মন্তব্যসমূহ