ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রমনা কালী মন্দিরে স্বর্ণ চুরি, দম্পতি গ্রেপ্তার

রমনা কালী মন্দিরে স্বর্ণ চুরি, দম্পতি গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরের বিগ্রহ থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, রমনা কালী মন্দির ছাড়াও আরও দুটি মন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি জুয়েলার্সের মালিককেও।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন লিপি কর্মকার (২৯) ও অর্ণব রায় দীপ্ত (৩০)। জুয়েলার্সের মালিকের নাম মুহিন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর দিনের কোনো এক সময় রমনা কালী মন্দিরে বিগ্রহের মুখ থেকে প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণ চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর গত রোববার সকালে উত্তরখানের দোবাদিয়া এলাকা থেকে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়। একই দিন শাহবাগ থানায় মামলা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন।

দম্পতির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দক্ষিণখান এলাকার ‘সাদিয়া জুয়েলার্সে’ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে দোকানটির মালিক মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, চুরির দিনই লিপি কর্মকার ওই দোকানে গিয়ে স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন। মুহিনের কাছ থেকে ২ আনা ১ রতি ৪ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনাতেও এই দম্পতির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছিল।

এ ছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে লোকনাথ মন্দির থেকে লোকনাথের বিগ্রহের গলার স্বর্ণের চেইন চুরি করে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিতের হাতে ধরা পড়েছিলেন এই দম্পতি। তবে মন্দির কমিটির সদস্যরা পরে তাদের ছেড়ে দেন বলে জানান ফারুক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “তারা মোট তিনটি মন্দির থেকে চুরি করেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে, আরও কোনো ঘটনায় তারা জড়িত কি-না।”

তিনি আরও বলেন, “মন্দিরে চুরির বিষয়টি সেনসিটিভ, সামনেই দুর্গাপূজা। আমরা এই চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দম্পতি আরও কোনো চুরির ঘটনায় জড়িত কি না, তা জানতে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুর্গাপূজার সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু হবে এবং এ উপলক্ষে পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত ডেপ্লয়মেন্ট রয়েছে, কোথাও কোনো সহিংসতা বা কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা মনে করি, সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে, কোনো ধরনের দুর্ঘটনার কোনো শঙ্কা নেই।”

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


রমনা কালী মন্দিরে স্বর্ণ চুরি, দম্পতি গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর রমনা কালী মন্দিরের বিগ্রহ থেকে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, রমনা কালী মন্দির ছাড়াও আরও দুটি মন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি জুয়েলার্সের মালিককেও।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন লিপি কর্মকার (২৯) ও অর্ণব রায় দীপ্ত (৩০)। জুয়েলার্সের মালিকের নাম মুহিন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. ফারুক হোসেন।

পুলিশ জানায়, গত ৭ অক্টোবর দিনের কোনো এক সময় রমনা কালী মন্দিরে বিগ্রহের মুখ থেকে প্রায় ৬ আনা ওজনের স্বর্ণ চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মন্দিরের পুরোহিত সুজিত চক্রবর্তী শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার পর গত রোববার সকালে উত্তরখানের দোবাদিয়া এলাকা থেকে ওই দম্পতিকে আটক করা হয়। একই দিন শাহবাগ থানায় মামলা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হলে তারা ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন।

দম্পতির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দক্ষিণখান এলাকার ‘সাদিয়া জুয়েলার্সে’ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে দোকানটির মালিক মুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, চুরির দিনই লিপি কর্মকার ওই দোকানে গিয়ে স্বর্ণ বিক্রি করেছিলেন। মুহিনের কাছ থেকে ২ আনা ১ রতি ৪ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণের পাত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে স্বর্ণ চুরির ঘটনাতেও এই দম্পতির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় রমনা থানায় একটি মামলা হয়েছিল।

এ ছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে লোকনাথ মন্দির থেকে লোকনাথের বিগ্রহের গলার স্বর্ণের চেইন চুরি করে পালানোর সময় মন্দিরের পুরোহিতের হাতে ধরা পড়েছিলেন এই দম্পতি। তবে মন্দির কমিটির সদস্যরা পরে তাদের ছেড়ে দেন বলে জানান ফারুক হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “তারা মোট তিনটি মন্দির থেকে চুরি করেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে, আরও কোনো ঘটনায় তারা জড়িত কি-না।”

তিনি আরও বলেন, “মন্দিরে চুরির বিষয়টি সেনসিটিভ, সামনেই দুর্গাপূজা। আমরা এই চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দম্পতি আরও কোনো চুরির ঘটনায় জড়িত কি না, তা জানতে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুর্গাপূজার সঙ্গে চুরির ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, ১৬ অক্টোবর দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু হবে এবং এ উপলক্ষে পুলিশের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের পর্যাপ্ত ডেপ্লয়মেন্ট রয়েছে, কোথাও কোনো সহিংসতা বা কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা মনে করি, সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে, কোনো ধরনের দুর্ঘটনার কোনো শঙ্কা নেই।”


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ