ফ্যামিলি কার্ড সংগ্রহের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, সরকারের উদ্যোগেই প্রতিটি পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তালিকা প্রকাশের পর গণশুনানির আয়োজন করা হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ সময় প্রতিটি পরিবারকে ৫০ থেকে ৫১টি প্রশ্ন করা হবে। পাওয়া উত্তরগুলো নির্ধারিত পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা হবে।
তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, কোন প্রশ্নের উত্তরের বিপরীতে কত নম্বর বা গুরুত্ব নির্ধারিত রয়েছে, তা তথ্য সংগ্রহকারীদের জানার প্রয়োজন হবে না। তাঁদের কাজ শুধু পরিবারের কাছ থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা।
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে, কোন পরিবার হতদরিদ্র, দরিদ্র কিংবা নিম্নবিত্ত শ্রেণিতে পড়বে।
তবে এভাবে প্রস্তুত করা তালিকায় ভুল থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী। এ কারণে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশের পর এলাকাভিত্তিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গণশুনানিতে তালিকা সবার সামনে উপস্থাপন করে কোনো অনিয়ম, ভুল তথ্য বা কারসাজি হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে। যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা সংশোধনের সুযোগ রাখা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কিছু মানুষের কাছ থেকে টিপসই নেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন ফারজানা শারমীন।
তিনি জানান, এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে কোথাও যোগাযোগ করতে হবে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিবারের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম বা অনিয়মের ঘটনা নজরে এলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অভিযোগ গ্রহণের জন্য অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে অভিযোগ জমা দেওয়া হলে তা যাচাই করে দেখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ