সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার এক দিন পর এবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় সৌদির আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা বিমান চলাচলে কী পরিমাণ প্রভাব পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এবং বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেছেন, সৌদি আরামকোর শেদগুম গ্যাস স্থাপনা ও তানাজিব তেল স্থাপনাও হুথিদের হামলার লক্ষ্য ছিল। তবে এসব স্থাপনায় হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা সৌদি ভূখণ্ডে এসব অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশিও রয়েছেন।
এর পরদিন রিয়াদ বিমানবন্দরেও ফের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হন।
আনাদোলু এজেন্সির হিসাবে, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে মোট ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঁচটি এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলার কথা বলা হয়েছে। আভা, জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরও হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ