ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হরমুজে বাড়ছে হামলা, যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রপথেও ছড়িয়ে পড়ছে?

হরমুজে বাড়ছে হামলা, যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রপথেও ছড়িয়ে পড়ছে?
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগে অগ্রগতি না হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলা বাড়ছে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরে যায়। আইআরজিসির দাবি, জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল।

ইরানি বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচলের নিয়ম উপেক্ষা করে অন্য কোনো ট্যাংকার চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেন, যুদ্ধ শুরুর সাত মাসের বেশি সময় পরও ইরানি বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুই ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এর মধ্যে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, গত এক দিনে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে জাহাজকে ঘিরে একাধিক সামরিক তৎপরতা ও সতর্কবার্তার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ উপকূলের কাছে নোঙর করা জাহাজগুলোকে অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বেতারবার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে ওমান উপসাগরে একটি পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরানের নৌ অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। হামলার পর জাহাজটির চলাচলের ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের পর চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি ট্যাংকার ধ্বংস করার দাবিও করেছে তারা।

হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনেও পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের সমাধানে পৌঁছাতে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চললেও আগামী কয়েক সপ্তাহে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি নয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি কতটা নিরাপদ থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ : হরমুজ প্রণালি ইরান যুদ্ধ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজে বাড়ছে হামলা, যুদ্ধ কি এবার সমুদ্রপথেও ছড়িয়ে পড়ছে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগে অগ্রগতি না হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলা বাড়ছে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার রাতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের সময় একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার নৌমাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরে যায়। আইআরজিসির দাবি, জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ ছিল।

ইরানি বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, প্রণালির নিরাপত্তা ও চলাচলের নিয়ম উপেক্ষা করে অন্য কোনো ট্যাংকার চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি বলেন, যুদ্ধ শুরুর সাত মাসের বেশি সময় পরও ইরানি বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুই ধরনের অভিযানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এর মধ্যে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, গত এক দিনে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে জাহাজকে ঘিরে একাধিক সামরিক তৎপরতা ও সতর্কবার্তার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ উপকূলের কাছে নোঙর করা জাহাজগুলোকে অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বেতারবার্তা দেওয়া হয়।

এদিকে ওমান উপসাগরে একটি পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্টকমের দাবি, জাহাজটি ইরানের নৌ অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। হামলার পর জাহাজটির চলাচলের ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।

সেন্টকম আরও দাবি করেছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপের পর চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল এবং ১৩৫টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০টি ট্যাংকার ধ্বংস করার দাবিও করেছে তারা।

হামলার প্রভাব ইতোমধ্যে হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহনেও পড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের সমাধানে পৌঁছাতে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ চললেও আগামী কয়েক সপ্তাহে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি নয়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা যেমন অনিশ্চিত, তেমনি হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি কতটা নিরাপদ থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: আল জাজিরা


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ