সৌদি আরবের ওপর হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর এখন তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্য।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিয়াদ বিমানবন্দরে গত দুই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের হামলায় একটি প্যাসেঞ্জার হলে আগুন ধরে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
এর এক দিন আগে একই বিমানবন্দরে চালানো হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান এবং সানায় হামলার জবাব হিসেবেই সৌদি ভূখণ্ডে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ৪ নম্বর প্যাসেঞ্জার হলে আগুন লাগার ঘটনাও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্যও।
সংঘাতের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং উত্তেজনা কমাতে সংলাপ ও মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তবে হুথিদের নতুন হুমকির ফলে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল ও তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মন্তব্যসমূহ